নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উড়ান প্রকল্পের হাত ধরে প্রথমবারের মতো দিল্লির সঙ্গে সরাসরি বিমান পরিষেবা পেল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দমন। শুক্রবার এক সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়ে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু বলেন, এই পরিষেবা পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
দমনের নবনির্মিত নামো বিমানবন্দর থেকে অ্যালায়েন্স এয়ারের দমন-দিল্লি-দমন রুটের উদ্বোধনী উড়ানের সূচনা করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “এটি দমনের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এতদিন সড়কপথে দিল্লি পৌঁছতে যেখানে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন বিমানপথে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় সেই যাত্রা সম্ভব হবে।”
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদির উড়ান প্রকল্প দেশের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ছোট শহরগুলিকে দেশের বড় শহরগুলির সঙ্গে বিমানপথে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ড এয়ার স্টেশন দমন-এ অবস্থিত দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য নামো বিমানবন্দর-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ৫ জুন। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে।
২৫ একর জমির উপর ১২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিমানবন্দরে ৩,৭০০ বর্গমিটারের একটি আধুনিক টার্মিনাল রয়েছে। প্রতিদিন ১৪টি এটিআর বিমান পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে এবং বছরে প্রায় ৩.৬৭ লক্ষ যাত্রী পরিষেবা নিতে পারবেন।
রাম মোহন নাইডু বলেন, দমন, দিউ, দাদরা ও নগর হাভেলি মিলিয়ে ৭,০০০-এরও বেশি শিল্প সংস্থা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ভাপি ও ভালসাদ এলাকায় আরও প্রায় ১৫,০০০ শিল্প ইউনিট রয়েছে। উন্নত বিমান যোগাযোগের ফলে ব্যবসায়িক যাতায়াত সহজ হবে, নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
তিনি আরও জানান, প্রতি বছর প্রায় ২০ লক্ষ পর্যটক দমন সফরে আসেন। নতুন বিমান পরিষেবা চালু হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া ভবিষ্যতে এয়ারবাস এ৩১০-সহ বড় আকারের বিমান অবতরণের উপযোগী করে রানওয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে মুম্বই, সুরাট, আহমেদাবাদ এবং পাটনার মতো শহরের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সংশোধিত উড়ান প্রকল্প আরও ১০ বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। ২৯,০০০ কোটি টাকার বরাদ্দে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১০০টি নতুন বিমানবন্দর এবং ২০০টি নতুন হেলিপ্যাড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।



















