কোটা, ১৭ জুলাই (আইএএনএস): প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে ২১ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষায় অংশ নেওয়া শীর্ষস্থানাধিকারী শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানিয়েছেন, দ্বিতীয় পরীক্ষা তাঁদের জন্য বেশি অনুকূল ছিল। ফলে নম্বরের পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক-এও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
রি-নিটে অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ৪ অর্জনকারী আয়ুষ বালোটিয়া জানান, বাতিল হওয়া প্রথম পরীক্ষায় তিনি ৬৯৫ নম্বর পেয়েছিলেন। পুনঃপরীক্ষায় তাঁর নম্বর বেড়ে হয়েছে ৭১০।
আইএএনএস-কে তিনি বলেন, “দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কোচিং করতাম। তারপর রাতের খাবার খেয়ে আরও প্রায় আড়াই ঘণ্টা পড়াশোনা করতাম। এরপর কিছুক্ষণ মোবাইল দেখে ঘুমিয়ে পড়তাম। প্রায় প্রতিদিনই এই রুটিন মেনে চলেছি।”
অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ১৬ পাওয়া কার্তিক চৌধুরীও জানান, পুনঃপরীক্ষা তাঁর জন্যও ইতিবাচক ফল এনেছে। প্রথম পরীক্ষায় তিনি ৭০০ নম্বর পেয়েছিলেন, আর রি-নিটে পেয়েছেন ৭০৫।
তাঁর কথায়, “৭০৫ নম্বর নিয়ে ১৬ এআইআর পেয়েছি, যা খুবই ভালো র্যাঙ্ক। আগের প্রশ্নপত্র তুলনামূলক সহজ ছিল, তবে এবার প্রশ্নের মান কিছুটা ভালো ছিল। গত দু’বছরের প্রস্তুতির প্রতিফলনই এই ফলাফলে দেখা গিয়েছে।”
প্রস্তুতির প্রসঙ্গে কার্তিক জানান, তিনি রাত সাড়ে ৯টা বা ১০টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা বা ৫টা পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্রাম নিয়ে দুপুর ২টায় কোচিং ক্লাসে যেতেন। রাজস্থানের কোটা থেকেই তিনি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
রি-নিটে ১৮ পাওয়া কৃতিকা জৈন জানান, ৩ মে অনুষ্ঠিত প্রথম পরীক্ষায় তিনি ৭০৫ নম্বর পেয়েছিলেন। তবে প্রশ্নপত্র সহজ হওয়ায় অনেকেই বেশি নম্বর পেয়েছিলেন, তাই তিনি তুলনামূলক খারাপ র্যাঙ্কের আশঙ্কা করেছিলেন।
তিনি বলেন, “রি-নিটের ঘোষণা হওয়ার পরই মনে হয়েছিল র্যাঙ্ক আরও ভালো করা সম্ভব। যদিও এবার আমার নম্বর ৭০১ হয়েছে, তবুও র্যাঙ্কের উন্নতি হয়েছে।”
অন্যদিকে, এআইআর ৫২ পাওয়া গুঞ্জন জানান, প্রথম পরীক্ষায় তাঁর নম্বর ছিল ৬৯০, আর পুনঃপরীক্ষায় তা বেড়ে হয়েছে ৬৯৫।
তিনি বলেন, “রি-নিট আমার জন্য ইতিবাচক হয়েছে। নম্বর ও র্যাঙ্ক—দুটোই উন্নত হয়েছে। বিশেষ করে ইনঅর্গানিক কেমিস্ট্রি বারবার রিভিশন করেছি, কারণ ওই অংশটা ভুলে যেতাম। বাকি প্রশ্নপত্র তুলনামূলক সহজ লেগেছে।”



















