জয়পুর, ১৫ জুলাই (আইএএনএস): রাজস্থান বিধানসভার ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘অমৃত মন্থন’ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, বিধানসভা এমন এক “পাঠশালা”, যেখান থেকে জাতীয় স্তরের নেতৃত্ব তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, জনসাধারণের পরিবর্তিত প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং গঠনমূলক আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিড়লা বলেন, গণতন্ত্রে বিধানসভাই এমন একটি মঞ্চ, যেখানে একটি রাজ্যের শক্তি, সমস্যা, মানুষের প্রত্যাশা, সমালোচনা এবং দুর্বলতা সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা পাওয়া যায়। তাঁর মতে, বিধানসভার আলোচনা ও বিতর্ক সরকার পরিচালনাকে আরও কার্যকর করে তুলতে সাহায্য করে।
বিধানসভাকে জনপ্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আজকের বিধানসভা এমন একটি পাঠশালা, যা আপনাকে জাতীয় নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। এই বিধানসভা থেকে বহু জাতীয় নেতা উঠে এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও আরও অনেক নেতৃত্ব তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে।”
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জনপ্রতিনিধিদের শেখার সুযোগ করে দিতে বিধায়কদের বক্তব্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপলোড করার ওপর জোর দেন লোকসভার স্পিকার। তিনি রাজস্থান বিধানসভার স্পিকার বাসুদেব দেবনানিকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ওম বিড়লা বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব বিধানসভার বিধায়কদের বক্তব্য অনলাইনে উপলব্ধ করার চেষ্টা চলছে। যাতে কোনও জনপ্রতিনিধির নাম সার্চ করলেই তাঁর বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্য সহজেই দেখা যায়।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শাসনব্যবস্থা এবং মানুষের প্রত্যাশা বদলেছে। এখন মানুষ জবাবদিহিমূলক সরকার এবং দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি চান। স্বচ্ছতা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মানসিকতা যাঁদের থাকবে, তাঁরাই সফল হবেন।
নিজের বিধায়ক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বিড়লা বলেন, রাজস্থান বিধানসভায় ফিরে এসে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। বিধানসভায় থাকাকালীন আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি অমূল্য শিক্ষা পেয়েছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্য ও লোকসভার স্পিকার হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনে সহায়ক হয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদে ৫০০-র বেশি সদস্যের মধ্যে নিজের পরিচিতি তৈরি করা ২০০ সদস্যের রাজস্থান বিধানসভার তুলনায় অনেক বেশি কঠিন ছিল। “জীবনের প্রথম পাঠশালা আমাকে যে শিক্ষা দিয়েছে, সেই শিক্ষা আমি এই বিধানসভা থেকেই পেয়েছি,” বলেন তিনি।
বিড়লা আরও বলেন, অধিবেশন চলাকালীন স্পিকারের কখনও দাঁড়ানো উচিত নয়, কারণ এতে চেয়ারের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। একই সঙ্গে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির মুখে কখনও চাপ বা উত্তেজনার ছাপ ফুটে ওঠা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিধানসভায় হট্টগোল সৃষ্টি করলেই কেউ নেতা হয়ে যান না বলেও মন্তব্য করেন লোকসভার স্পিকার। তাঁর মতে, যাঁরা তথ্যভিত্তিক ও গঠনমূলক বক্তব্য রাখেন, তাঁরাই দীর্ঘদিন মানুষের মনে থেকে যান। তিনি বলেন, প্রাক্তন বিধায়কদের বিতর্ক আজও পড়ে শেখা যায় এবং তিনি নিজেও প্রবীণ নেতাদের বক্তব্য ও আচরণ থেকে এখনও শিক্ষা নেন।
বর্তমানে অনেক বিধায়ক নিজের বক্তব্য শেষ করেই অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে চলে যান বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিড়লা। তাঁর কথায়, “ভালো বক্তা হতে হলে আগে ভালো শ্রোতা হতে হয়। শুধু নিজের বক্তব্য রেখে চলে গেলে চলবে না, অন্যদের বক্তব্যও মন দিয়ে শুনতে হবে।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভৈরোঁ সিং শেখাওয়াতের সরলতা ও আচরণের প্রশংসা করে বিড়লা বলেন, তাঁর মতো নেতাদের আদর্শ আজও অনুপ্রেরণা জোগায়। রাজস্থান বিধানসভা এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা একজন জনপ্রতিনিধিকে সারাজীবন পথ দেখাতে পারে।
বিধানসভায় আরও বেশি আলোচনা, বিতর্ক এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রশ্ন উঠলে তার যথাযথ উত্তর দিন। এই বিধানসভাই আপনাদের মঞ্চ। এখান থেকেই জাতীয় নেতা হয়ে ওঠা সম্ভব।”



















