কলকাতা, ১৫ জুলাই (আইএএনএস): সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার থেকে একই সংস্থার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বারবার বাড়ানো যাবে না। পরিবর্তে, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।
বুধবার প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একই সংস্থার সঙ্গে বারবার চুক্তি নবীকরণ বা মেয়াদ বৃদ্ধি আর অনুমোদিত হবে না। এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার চলতি সপ্তাহের শুরুতেই জারি করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই নিয়ম শুধু বিভিন্ন সরকারি দফতরের ক্ষেত্রেই নয়, পঞ্চায়েত, পুরসভা, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, বিধিবদ্ধ সংস্থা এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। সরকারের আশা, এর ফলে সরকারি কাজের গতি বাড়বে, নিয়ম-কানুন আরও কঠোরভাবে কার্যকর হবে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি দফতর ও তাদের অধীনস্থ অফিসগুলি নানা ক্ষেত্রে নিযুক্ত সংস্থার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বারবার অর্থ দফতরের অনুমোদন চাইছে। এমনও দেখা গেছে, কিছু কর্তৃপক্ষ অর্থ দফতরের পূর্বানুমতি ছাড়াই চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ধরনের পদক্ষেপ আর্থিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে এবং প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ণ করে।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। প্রতিটি দফতরের প্রধানকে বিদ্যমান সব চুক্তির মাসিক পর্যালোচনা করতে হবে এবং সেই তালিকা অর্থ দফতরের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে।
সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও পরিস্থিতিতেই বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি বা নবীকরণের প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে না। সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার অজুহাতও গ্রহণযোগ্য হবে না। অনুমতি ছাড়া চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো বা নতুন টেন্ডার আহ্বানে বিলম্বকে আর্থিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, সংশ্লিষ্ট দফতর ও অধীনস্থ অফিসগুলির প্রধানদের নিজ নিজ এলাকায় এই নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করার ব্যক্তিগত দায়িত্বও নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার।
প্রশাসনের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই সংস্থাকে কাজ দেওয়ার ফলে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। এতে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্য সংস্থাও সরকারি প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে সেই প্রবণতায় লাগাম টানতেই উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার।



















