নয়াদিল্লি, ১৪ জুলাই (আইএএনএস): সিবিএসই-র সংশোধিত তিন-ভাষা নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া নতুন একগুচ্ছ আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার কেন্দ্র, সিবিএসই এবং এনসিইআরটি-কে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২৯ জুলাই।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে। তবে এই মুহূর্তে সিবিএসই-র সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিগুলির উপর কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করা হয়নি। সিবিএসই-র পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্যা ভাটি আদালতকে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জবাব দাখিল করা হবে।
আবেদনকারীরা সিবিএসই-র ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রম এবং ৯ এপ্রিল ও ৪ মে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সিবিএসই অনুমোদিত স্কুলগুলিতে দুটি ভারতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের পছন্দের স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
প্রবীণ আইনজীবী আনন্দ গ্রোভারের মাধ্যমে দায়ের হওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি-এনসিআর-এর সিবিএসই অনুমোদিত বেসরকারি স্কুলে পড়া ষষ্ঠ শ্রেণির বহু ছাত্রছাত্রী এতদিন ইংরেজি, হিন্দি এবং একটি বিদেশি ভাষা পড়ত। কিন্তু শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার পর হঠাৎ বিদেশি ভাষার পাঠ বন্ধ করে সংস্কৃত পড়তে বাধ্য করা হয়েছে, যার ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আবেদনকারীদের দাবি, বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যক্রম নির্ধারণের ক্ষমতা শুধুমাত্র এনসিইআরটি-র। অথচ ২০২৬-২৭ সালের নতুন পাঠ্যক্রম এনসিইআরটি প্রণয়ন বা অনুমোদন করেনি। তাই এই পাঠ্যক্রম আইনসম্মত নয় এবং ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর করা যায় না।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার পরে হঠাৎ ভাষা-সংক্রান্ত পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অসাংবিধানিক। মাত্র সাত দিনের মধ্যে নতুন পাঠ্যক্রম কার্যকর করার নির্দেশ দিয়ে বিদেশি ভাষার পাঠ কার্যত রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি আবেদনকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, পর্যাপ্ত পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাসামগ্রী ছাড়াই কীভাবে এই নতুন ভাষা কাঠামো কার্যকর করা সম্ভব। তাঁদের দাবি, এনসিইআরটি এখনও নতুন সিলেবাস ও পাঠ্যবই তৈরির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই নীতি সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করছে। এছাড়া, ইংরেজিকে ‘ভারতীয় ভাষা নয়’ হিসেবে বিবেচনা করাও অযৌক্তিক, কারণ সরকারি ভাষা আইন, ১৯৬৩ অনুযায়ী ইংরেজি কেন্দ্রের অন্যতম সরকারি ভাষা। ইংরেজিকে ফরাসি, জার্মান বা স্প্যানিশের মতো বিদেশি ভাষার সঙ্গে একই শ্রেণিতে ফেলা যুক্তিসঙ্গত নয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের মতে, এই নীতির ফলে সিবিএসই স্কুলের মধ্যবিত্ত পরিবারের পড়ুয়ারা বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, যেখানে ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক বোর্ডের স্কুলে সেই সুযোগ বহাল থাকবে। তাঁদের আরও দাবি, এই নীতি জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০-র নমনীয়তা, শিক্ষার্থীর পছন্দ এবং শিক্ষাগত স্বাধীনতার নীতিরও পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, এই সংশোধিত তিন-ভাষা নীতি নিয়ে আগেই সুপ্রিম কোর্টে একদফা মামলা চলছে। চলতি বছরের মে মাসে আদালত সেই মামলাতেও কেন্দ্র, সিবিএসই এবং এনসিইআরটি-কে নোটিস জারি করেছিল। তখনও আদালত নীতির উপর স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে জানিয়েছিল, শিক্ষক, পাঠ্যপুস্তক ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলি শুনানির সময় বিবেচনা করা হবে।
এদিকে, সিবিএসই ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে যে বর্তমান নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে তৃতীয় ভাষা দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার বিষয় হবে না। তবে স্কুলভিত্তিক মূল্যায়নে সেই ভাষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ভবিষ্যতে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবই সম্পূর্ণ চালু হলে তৃতীয় ভাষায় বোর্ড পরীক্ষাও নেওয়া হবে।
–আইএএনএস
























