নয়াদিল্লি, ১৪ জুলাই (আইএএনএস): পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলা মামলায় লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রসংঘ ঘোষিত জঙ্গি হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে জম্মুর একটি আদালতের জারি করা অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানাকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের প্রাক্তন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা আধিকারিকরা। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে ‘রেড কর্নার নোটিস’ জারি করার পথ আরও সুগম হতে পারে।
আইএএনএস-কে প্রাক্তন সেনা আধিকারিক ক্যাপ্টেন অনিল গৌর বলেন, তদন্ত শেষে পুলিশ যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, আদালত তা গ্রহণ করেছে এবং হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছে। এখন ভারত সরকার সেই পরোয়ানা যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাঠালে ইন্টারপোল ‘রেড কর্নার নোটিস’ জারি করতে পারে, যাতে তাকে ভারতে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
তবে তিনি বলেন, পাকিস্তান বরাবরই হাফিজ সইদের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করে এসেছে। অতীতেও ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানে থাকলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করেছিল। তাঁর মতে, আদালত চার্জশিট গ্রহণ করায় আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ভারতের অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও জোরদার হবে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বমত আরও কঠোর হতে পারে।
জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) এস.পি. বৈদও এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পূর্ণ হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন পাকিস্তান লস্কর-ই-তইবার হাফিজ সইদ, জইশ-ই-মহম্মদের মাসুদ আজহার এবং অন্যান্য চিহ্নিত জঙ্গি নেতাদের ভারতের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হবে।
পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গে বৈদ বলেন, হামলার পরিকল্পনা শীর্ষস্তরে করা হয়, আর ময়দানে থাকা জঙ্গিরা তা কার্যকর করে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারী এবং মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। তাঁর দাবি, ২৬/১১ মুম্বই হামলার ক্ষেত্রেও হাফিজ সইদই ছিলেন মূল ষড়যন্ত্রকারী।
তিনি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ায় এখন ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড কর্নার নোটিস’ জারি করা সম্ভব হতে পারে। তা হলে হাফিজ সইদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। লস্কর-ই-তইবার জড়িত থাকা সব মামলাতেই একই ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে প্রমাণ তুলে ধরা যায়।
এস.পি. বৈদের মতে, ভারতে সংঘটিত বহু জঙ্গি হামলার নেপথ্যে হাফিজ সইদের ষড়যন্ত্র রয়েছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং সন্ত্রাসবাদে নিহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দিকেও এটি একটি বড় অগ্রগতি।
________
























