তেলিয়ামুড়া, ১৪ জুলাই: ত্রিপুরার খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমার কৃষ্ণপুর বিধানসভা এলাকার চাকমাঘাট শিবিরে বসবাসকারী এক দরিদ্র পরিবারের পক্ষ থেকে বিপিএল বা অন্তোদয় রেশন কার্ড করে দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন শিবিরের বাসিন্দা দৈনিক মজুর পরেশ দেববর্মার স্ত্রী।
পরেশ দেববর্মা স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে চার সদস্যের পরিবারে বসবাস করেন। দৈনিক মজুরির অনিয়মিত আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলে সংসার। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বিপিএল বা অন্তোদয় রেশন কার্ডের জন্য আবেদন জানিয়েও এখনও সেই সুবিধা পাননি। ফলে সরকারি খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের পূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে অভিযোগ।
অভাবের চিত্র আরও স্পষ্ট তাঁদের বসতবাড়িতে। একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরই পরিবারের একমাত্র আশ্রয়। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই ছাউনি দিয়ে জল পড়ে ঘরের ভেতরে। শিলাবৃষ্টির সময় আতঙ্কে রাত কাটাতে হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সূর্যাস্তের পরই অন্ধকারে ডুবে যায় গোটা বাড়ি।
পরিবারের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। আশ্বাস মিললেও বাস্তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেনি।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পরেশ দেববর্মার স্ত্রী। তাঁর দাবি, এপিএল রেশন কার্ডকে বিপিএল বা অন্তোদয় কার্ডে রূপান্তর করতে অর্থ দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা দিলেই কার্ড পরিবর্তনের কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও এখনও পাওয়া যায়নি।
নিজেদের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, “লবণ থাকলে মরিচ নেই, মরিচ থাকলে সিদল নেই, সিদল থাকলে মোম নেই, আর মোম থাকলেও কারেন্ট নেই।” তাঁর এই বক্তব্যেই ফুটে ওঠে দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন ও অনিশ্চয়তার চিত্র।
এদিকে, সরকারি স্তরে দাবি করা হয় যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে পরেশ দেববর্মার পরিবারের ভগ্নপ্রায় বাসস্থান ও মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ সেই দাবির সঙ্গে বাস্তবের ফারাকের প্রশ্ন তুলছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, পরেশ দেববর্মার এপিএল রেশন কার্ডটি নাকি এলাকার এক ব্যক্তির কাছে অর্থের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে। যদিও এই দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন নজর প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।























