মাঙ্গালুরু, ১৪ জুলাই (আইএএনএস): অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে এনে কর্ণাটকের উপকূলবর্তী এলাকায় কাজে নিযুক্ত করার অভিযোগে মূলচক্রী-সহ তিন মানবপাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে মাঙ্গালুরু সিটি পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনকে কর্ণাটক থেকে এবং মূলচক্রীকে কলকাতায় যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি কুন্তিকানা ও কোডিয়াল এলাকার নির্মাণস্থলে অভিযান চালিয়ে একাধিক অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করার পর তদন্তে এই পাচারচক্রের হদিশ মেলে।
এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মইদিন ইসলাম, রসুল ইসলাম এবং দিলওয়ার হুসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা আন্তঃরাজ্য মানবপাচার চক্র পরিচালনা করত। তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এনে উত্তর ভারতের পরিযায়ী শ্রমিক পরিচয়ে কর্ণাটকের নির্মাণ ও শিল্পক্ষেত্রে কাজের ব্যবস্থা করে দিত।
মইদিন ইসলাম ও দিলওয়ার হুসেনকে মাঙ্গালুরু পুলিশ গ্রেফতার করে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের সহযোগিতায় মূলচক্রী রসুল ইসলামকে কলকাতায় গ্রেফতার করা হয়। মাঙ্গালুরু পুলিশের একটি বিশেষ দল ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে আসতে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা নির্মাণ ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য শ্রমিক সংগ্রহের আড়ালে অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন কর্মস্থলে পাঠাত। জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার, সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের রুট এবং স্থানীয় সহযোগীদের ভূমিকা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
পুলিশের মতে, এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে। তাই তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার মাঙ্গালুরু শহরের দুটি পৃথক নির্মাণস্থল থেকে আরও ১১ জন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। এর আগে ৯ জুলাই সুরথকাল পুলিশ মুক্কা এলাকার একটি নির্মাণস্থল থেকে আটজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছিল।
মাঙ্গালুরু সিটি পুলিশের কমিশনার সুধীর কুমার রেড্ডি জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতরে (এফআরআরও) বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক ওই দালালের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা রুজু করা হবে, যিনি অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের মাঙ্গালুরুতে এনে পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার কাজ করতেন বলে অভিযোগ।
























