গুয়াহাটি, ১৩ জুলাই (আইএএনএস) : অসম সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করলেন কংগ্রেস বিধায়ক জয় প্রকাশ দাস। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে উপেক্ষা করে এমন প্রকল্পের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জয় প্রকাশ দাস বলেন, প্রতিবছর বন্যায় অসমের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বহু জেলা দীর্ঘদিন ধরে প্লাবিত থাকে। অথচ এবারের বাজেটে এই পুনরাবৃত্ত বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কোনও সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই।
তিনি বলেন, গত এক দশক ধরে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তারপরও প্রতি বছর বন্যায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যায়। মানুষ দুর্ভোগে থাকলেও সরকার বাস্তব সমস্যা সমাধানের বদলে মেট্রো রেল প্রকল্পের কথা বলছে। বাজেটে মেট্রো নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে, কিন্তু মানুষের প্রকৃত সমস্যাগুলির সমাধানের কোনও দিশা নেই।
কংগ্রেস বিধায়কের অভিযোগ, রাজ্য সরকার একাধিক বড় ঘোষণা করলেও তার বাস্তবায়নের কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। তাঁর দাবি, সরকার কেবল ঘোষণার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
জয় প্রকাশ দাস আরও বলেন, অতীতে সরকারের প্রচারিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পেরও এবারের বাজেটে কোনও উল্লেখ নেই। তাঁর অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও চর-চাপরি এলাকার উন্নয়নের জন্য কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি। একইভাবে একসময় বহুল প্রচারিত ‘অসম দর্শন’ প্রকল্পেরও বাজেটে কোনও উল্লেখ নেই।
তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নদীদ্বীপ এবং অসমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র মাজুলির উন্নয়নের জন্যও বাজেটে উল্লেখযোগ্য কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি।
মৎস্যচাষ ও জলাশয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে সরকারের ঘোষণারও সমালোচনা করেন কংগ্রেস বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, পুকুর উন্নয়নের কথা বলা হলেও মৎস্যচাষিদের আর্থিক সহায়তা বা এই খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকার উন্নয়নে কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাজেটে নেই।
জয় প্রকাশ দাসের অভিযোগ, এই সরকার শুধু বড় বড় ঘোষণা দিয়েই টিকে আছে। বাস্তবে মানুষের সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ খুব কমই দেখা যায়। এই বাজেটেও প্রতিশ্রুতি ছাড়া নতুন কিছু নেই।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অসম সরকার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করেছে। সেখানে পরিকাঠামো উন্নয়ন, নগর পরিবহণ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
























