বিলোনিয়া, ১৩ জুলাই :
দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া শহরে ট্রাফিক দপ্তরের গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ। শহরের ব্যস্ততম রাজপথে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারী, অফিস-আদালতের কর্মচারী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়াসহ হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিলোনিয়ার এক নম্বর টিলা হাসপাতাল কর্নার থেকে স্টেট ব্যাংক পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল কার্যত দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। অথচ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক দপ্তরের কার্যকর ভূমিকা প্রায় চোখেই পড়ে না।
অভিযোগ, মাঝে মধ্যে ট্রাফিক দপ্তরের পক্ষ থেকে এক-দু’জন এসপিও বা কনস্টেবল মোতায়েন করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। ফলে যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
এছাড়াও, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অটোরিকশাগুলি যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অন্যদিকে, ব্যস্ত সময়েই বড় বড় পরিবহন সংস্থার ট্রাক ও মালবাহী গাড়ি রাস্তার ধারে দোকানগুলিতে মাল লোড-আনলোড করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শহরের রাস্তায় এখন ট্রাফিক নিয়মের চেয়ে বিশৃঙ্খলাই যেন বেশি চোখে পড়ছে। অবৈধ পার্কিং, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা এবং ফুটপাত দখলের মতো সমস্যাও দিন দিন বাড়ছে। অথচ এসব অনিয়ম রোধে প্রশাসন বা ট্রাফিক দপ্তরের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এমনকি রবিবারও এলাকায় কোনো ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন নাগরিকদের বক্তব্য, এটি কোনো একদিনের সমস্যা নয়; দীর্ঘদিন ধরেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তারা অবিলম্বে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কড়া নজরদারি, নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ, নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা বন্ধ এবং ব্যস্ত সময়ে মালবাহী গাড়ির লোড-আনলোড নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের তোলা এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাফিক দপ্তরের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
























