অযোধ্যা, ১৩ জুলাই (আইএএনএস) : রামমন্দিরে অনুদান তছরুপের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের আবহেই প্রধান নির্বাহী আধিকারিক (সিইও) পদে নিয়োগের জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করল শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। সোমবার ট্রাস্টের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত সিইও মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার নেতৃত্ব দেবেন এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমের তদারকি করবেন।
ট্রাস্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের আগামী ১৮ জুলাই বিকেল ৪টার মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। নিয়োগের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিটি যোগ্যতার মানদণ্ড ও অন্যান্য শর্ত চূড়ান্ত করার পরই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে স্নাতক হতে হবে এবং প্রশাসন বা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া মন্দির পরিচালনা বা প্রশাসনের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আবেদনকারীকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়াও বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে ট্রাস্ট।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে শুরু হল, যখন রামমন্দিরে প্রাপ্ত অনুদান তছরুপের অভিযোগে স্বাধীন ও আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবিতে দায়ের হওয়া একাধিক আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র, উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টকে নোটিস জারি করেছে।
শীর্ষ আদালত একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-কে তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে এবং তদন্তকারী দলের সদস্যদের পরিচয় প্রকাশ করারও নির্দেশ দিয়েছে।
ট্রাস্ট জানিয়েছে, নির্বাচিত সিইওকে প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ করা হবে। দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে অযোধ্যাতেই বসবাস করতে হবে, যাতে মন্দিরের প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত কাজের উপর নিয়মিত নজর রাখা যায়।
এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং নতুন সিইও নিয়োগে সহায়তার জন্য একজন সচিব নিয়োগের সিদ্ধান্তও নিয়েছে নির্বাচন কমিটি। রামমন্দিরে অনুদান তছরুপের অভিযোগ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে রবিবার এক সাক্ষাৎকারে রামমন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র জানান, নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে ট্রাস্টের কাছে জবাবদিহিমূলক একজন সিইও নিয়োগ করা হবে। তাঁর আশা, এই ব্যবস্থা ভক্তদের স্বার্থ রক্ষায় আরও কার্যকর হবে এবং বর্তমান বিতর্কের পরও মন্দির পরিচালনা ব্যবস্থার প্রতি ভক্তদের আস্থা অটুট থাকবে।
নৃপেন্দ্র মিশ্রের মতে, ভবিষ্যতে অনুদান সংক্রান্ত এমন বিতর্ক এড়াতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সিইও ট্রাস্টের নির্দেশ ও সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শ অনুযায়ী মন্দিরের সামগ্রিক প্রশাসনিক কাজ দেখভাল করবেন এবং এই প্রক্রিয়ায় সরকারের কোনও হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, সিইও বর্তমান ব্যবস্থার একটি অতিরিক্ত সংযোগসূত্র হিসেবে কাজ করবেন। বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে। ট্রাস্টই সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ এবং তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
























