হ্যানয়, ১২ জুলাই (আইএএনএস) : ভিয়েতনামে নৌকাডুবির ঘটনায় নিহত ১৫ জন ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ হো চি মিন সিটিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব সেগুলি ভারতে পাঠানো হবে বলে রবিবার জানিয়েছে ভিয়েতনামে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।
দূতাবাস জানিয়েছে, নিহত ভারতীয়দের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে ভিয়েতনামের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্-এ ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, শনিবারের মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৫ ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ হো চি মিন সিটিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে সেখানে পৌঁছবে। হো চি মিন সিটিতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মরদেহগুলি ভারতে পাঠানো হবে। দূতাবাস ও কনস্যুলেটের দল ভিয়েতনামের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করছে এবং তারা সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
এর আগে দূতাবাস জানিয়েছিল, দুর্ঘটনায় আহত ১৫ জন জীবিত যাত্রী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এবং তারা ভারতে ফিরছেন। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন দুই যাত্রীর মধ্যে একজন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এবং তিনিও দেশে ফিরছেন। অপরজন এখনও ফু কুয়কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে দূতাবাস।
শনিবার দক্ষিণ ভিয়েতনামের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ফু কুয়ক দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলের কাছে ভারতীয় পর্যটকবাহী একটি নৌকা উল্টে গেলে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে তামিলনাড়ুর ১০ জন পর্যটক ছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে প্রায় ৩২ জন ভারতীয় পর্যটক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা এবং বাকিরা অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও কেরলের বাসিন্দা।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল, স্থানীয় বাসিন্দা এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। বহু যাত্রীকে জল থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে বাঁচানোর জন্য ঘটনাস্থলেই সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দেওয়া হয়।
দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ভিয়েতনামের কর্তৃপক্ষ। আহত ও উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নৌকাডুবির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ভিয়েতনামের প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।



















