চেন্নাই, ১১ জুলাই (আইএএনএস): মহারাষ্ট্র থেকে বড় পেঁয়াজের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় চেন্নাইয়ে হঠাৎ করেই বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে।
চেন্নাইয়ের কোয়েম্বেডু পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্রে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে পেঁয়াজ চাষ এবং উৎপাদিত ফসল বিভিন্ন রাজ্যে পরিবহণ ব্যাহত হয়েছে। এরই প্রভাব পড়েছে তামিলনাড়ুসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে।
মহারাষ্ট্র ও কর্নাটক তামিলনাড়ুতে বড় পেঁয়াজের প্রধান সরবরাহকারী রাজ্য। সাধারণত নাসিক, পুনে ও সোলাপুরের মতো উৎপাদন কেন্দ্রগুলি থেকে প্রতিদিন কোয়েম্বেডু বাজারে ৬০ থেকে ৬৫টি ট্রাক পেঁয়াজ আসে। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫টি ট্রাকে। ফলে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং পাইকারি দাম দ্রুত বেড়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক দিনে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। কোয়েম্বেডু স্মল হোলসেল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম. মুথুকুমার জানান, কয়েক দিন আগেও পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বড় পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, যা এখন বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় পৌঁছেছে। এলাকার ভিত্তিতে এবং বিক্রেতাদের লাভের পরিমাণ অনুযায়ী খুচরা বাজারে দাম আরও কিছুটা বেশি।
ব্যবসায়ীদের মতে, মহারাষ্ট্রে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, আগামী দিনে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়বে।
বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টির সময় এ ধরনের ওঠানামা অস্বাভাবিক নয়। টানা বৃষ্টির ফলে ফসল তোলা ব্যাহত হয়, মাঠের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উৎপাদন কেন্দ্রগুলি থেকে পরিবহণেও সমস্যা দেখা দেয়। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হলে এবং নতুন করে পর্যাপ্ত সরবরাহ শুরু হলে দাম আবার স্থিতিশীল হবে বলেই আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় টমেটোর দাম এখনও তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। দেশি টমেটো প্রতি কেজি ১০ থেকে ২০ টাকা এবং হাইব্রিড টমেটো ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য অধিকাংশ সবজির দামে তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পেঁয়াজের সরবরাহ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী কয়েক সপ্তাহে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
























