কৈলাশহর, ৯ জুলাই: টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ঊনকোটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। মনু নদীর জলস্তর বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নদীতীরবর্তী এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য ভাঙন ও জল প্রবেশের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার কৈলাশহর মহকুমার লাটিয়াপুড়া, দেবীপুর-সহ একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অব্যাহত বৃষ্টির ফলে মনু নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দুটি সুইচগেট দিয়ে জল প্রবেশের ঘটনাও নজরে এসেছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যান কৈলাশহরের মহকুমা শাসক, বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের আধিকারিকরা, গৌরনগর পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, গৌরনগর ব্লকের বিডিও, বিএসএফের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। তাঁরা বাঁধের অবস্থা, নদীর স্রোতের তীব্রতা, ভাঙনপ্রবণ এলাকা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির স্থানগুলি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার মতো সব ধরনের প্রস্তুতিও রাখতে বলা হয়েছে। এদিকে, নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে শুধুমাত্র প্রশাসনের সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, বন্যা পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণে প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।



















