News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • খোয়াইয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বিপৎসীমার কাছাকাছি নদীর জলস্তর; ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন বাসিন্দারা
Image

খোয়াইয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বিপৎসীমার কাছাকাছি নদীর জলস্তর; ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন বাসিন্দারা

আগরতলা, ৯ জুলাই: টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে খোয়াই জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দ্রুত বাড়ছে খোয়াই নদীর জলস্তর। নদীর উপচে পড়া জল ইতিমধ্যেই শহর ও নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকার বাড়িঘর এবং কৃষিজমিতে ঢুকে পড়েছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বিঘার পর বিঘা ধানক্ষেত, ফলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খোয়াই নদীর জলস্তর বিপৎসীমার দিকে এগিয়ে চলায় নদীতীরবর্তী এলাকায় হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে সমতল পদ্মবিল, পশ্চিম গণকী, সোনাতলা, ধলাবলি, চকবেরসহ একাধিক এলাকা। এসব অঞ্চলে বহু বাড়িঘরে বন্যার জল ঢুকে পড়েছে। পাশাপাশি বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলের নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ধানচাষে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের জেরে খোয়াই পুরপরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ১৯টি পরিবারের বাড়িতে জল ঢুকে পড়েছে। ফলে ওই পরিবারগুলিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে হরকুমার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে খোলা সরকারি ত্রাণশিবিরে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পশ্চিম গণকীর উত্তরপাড়া এলাকাতেও নদীর জল একাধিক বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। পাশাপাশি এলাকার কৃষিজমির ফসলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী এলাকার বহু বাসিন্দা স্বেচ্ছায় নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রশাসনের তৈরি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। বুধবার রাত থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে নদী সংলগ্ন ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বৃহস্পতিবারও খোয়াই নদীর জলস্তর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রতি ঘণ্টায় নদীর জল বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি যে কোনও সময় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার পাশাপাশি অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Releated Posts

বিশালগড় জেলকাণ্ড: প্যারোল বঞ্চনার অভিযোগে মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার

আগরতলা, ৯ জুলাই: বিশালগড় কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি অবস্থায় আত্মহত্যা করা বিশুরাই দেববর্মা ওরফে দিলীপ দেববর্মার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র…

ByByReshmi Debnath Jul 9, 2026

ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট, চরম দুর্ভোগে রোগী ও পরিজনরা

কৈলাসহর, ৯ জুলাই: ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাঁদের আত্মীয়-স্বজনরা।…

ByByTaniya Chakraborty Jul 9, 2026

মনু নদীর জল বিপৎসীমার ওপরে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে প্রশাসন

কৈলাশহর, ৯ জুলাই: টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ঊনকোটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। মনু নদীর জলস্তর বিপৎসীমা…

ByByReshmi Debnath Jul 9, 2026

বেহাল কদমতলা-রানীবাড়ি-তারকপুর সড়ক, অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে এলাকাবাসী

আগরতলা, ৯ জুলাই: দীর্ঘদিন ধরে কদমতলা থেকে রানীবাড়ি হয়ে তারকপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট…

ByByTaniya Chakraborty Jul 9, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top