কলকাতা, ৬ জুলাই (আইএএনএস) : প্রতিবেশী দেশগুলিতে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেওয়া প্রকৃত শরণার্থীদের নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন (সিএএ)-এর আওতায় নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
সোমবার কলকাতায় ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই ঘোষণা করেন।
অমিত শাহ বলেন, ১৯৫০ সালের ৮ এপ্রিল ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের মধ্যে স্বাক্ষরিত লিয়াকত-নেহরু চুক্তি উভয় দেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যে করা হলেও বাস্তবে পাকিস্তান ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) বসবাসকারী সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
তিনি দাবি করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ওই চুক্তি বিশ্লেষণ করে বুঝতে পেরেছিলেন যে, পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যালঘু হিন্দুদের স্বার্থ সেখানে উপেক্ষিত হয়েছে, যদিও ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় রয়েছে এবং সেই কারণেই প্রতিবেশী দেশগুলিতে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আসা হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে সিএএ কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই ধরনের সমস্ত প্রকৃত শরণার্থীকে নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে এবং সেই প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই সম্পন্ন হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম দুই মাসের প্রশাসনিক কাজেরও প্রশংসা করেন।
তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যে সমাজবিরোধী ও দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) কার্যকরের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অমিত শাহ বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকা উচিত, কারণ প্রত্যেককেই আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির মুখোমুখি করা হবে।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন দেশের মানুষের মধ্যে এক গণআন্দোলনের প্রেরণা জুগিয়েছিল এবং তা ভারতীয় রাজনীতিতে একটি আদর্শভিত্তিক আন্দোলনের সূচনা করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় সারা দেশে কংগ্রেসের ব্যাপক প্রভাব ছিল এবং অন্য কোনও রাজনৈতিক আদর্শের জন্য বিশেষ পরিসর ছিল না। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নতুন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলে বিকল্প রাজনৈতিক চিন্তার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।



















