গুয়াহাটি, ৬ জুলাই (আইএএনএস): আন্তঃদেশীয় মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত অভিযান চালানোর লক্ষ্যে ব্রিকস ভার্চুয়াল ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। ভারতের ব্রিকস ২০২৬ সভাপতিত্বের অধীনে গুয়াহাটিতে সোমবার শুরু হওয়া দু’দিনের ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির মাদকবিরোধী সংস্থার প্রধানদের বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির মাদকবিরোধী সংস্থার প্রধান এবং শীর্ষ আধিকারিকরা অংশ নিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে মাদক পাচার ও মাদকাসক্তির ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
উদ্বোধনী অধিবেশনে ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বদানকারী অনুরাগ গর্গ বলেন, ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির মাদকবিরোধী সংস্থাগুলির মধ্যে এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা দ্রুততা, পারস্পরিক আস্থা এবং বাস্তব সময়ে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে আরও দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আন্তঃদেশীয় মাদক পাচার চক্রগুলি এখন আরও আধুনিক ও সংগঠিত হয়ে উঠছে। তাই ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে আরও বেশি সমন্বয়, দ্রুত তথ্য বিনিময় এবং যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর নেতৃত্বে ভারতের মাদকবিরোধী কৌশলের কথা তুলে ধরে অনুরাগ গর্গ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে ভারতের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬-২৯ সময়কালের জন্য একটি তিন বছরের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে, যা নেটওয়ার্কভিত্তিক আইন প্রয়োগের ওপর জোর দেয়।
এই কৌশলের মূল লক্ষ্য শুধু পৃথক অপরাধীকে গ্রেফতার করা নয়, বরং গোটা অপরাধচক্রকে ভেঙে দেওয়া। একই সঙ্গে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা, নেশামুক্তি ও পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভারতের প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্রিকস ভার্চুয়াল ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, নতুন মাদক পাচারের প্রবণতা যৌথভাবে বিশ্লেষণ করা, সমন্বিত অভিযান পরিচালনা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কার্যকর সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
আগামী দু’দিনের বৈঠকে সিন্থেটিক মাদকের বাড়বাড়ন্ত, সীমান্তপারের পাচারপথ, প্রযুক্তিনির্ভর মাদক পাচার চক্র এবং যৌথ আইন প্রয়োগের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকের শেষে গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর অভিযান, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















