কলকাতা, ৬ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের শূন্য হওয়া তিনটি রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচন আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগণনা ও ফলাফলও একই দিন ঘোষণা করা হবে বলে সোমবার জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)।
তৃণমূল কংগ্রেসের তিন রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক পদত্যাগ করায় এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়েছে। চলতি বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই তাঁরা দল ছাড়েন। ওই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৭ জুলাই নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৪ জুলাই। ১৫ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই হবে এবং ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। প্রয়োজন হলে ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে।
ভোটগ্রহণ হলে ওই দিনই ভোটগণনা সম্পন্ন করে ফল ঘোষণা করা হবে। সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়া ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হবে।
সুখেন্দু শেখর রায় প্রথমে ৮ জুন রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর ১০ জুন সুস্মিতা দেব এবং ১১ জুন প্রকাশ চিক বরাইক পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগের পর প্রকাশ চিক বরাইক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, অসমের রাজনীতিক সুস্মিতা দেব দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এদিকে সুখেন্দু শেখর রায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী লোকসভা সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গিয়েছে। পরে ওই সাংসদরা কার্যত নিষ্ক্রিয় ত্রিপুরাভিত্তিক ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেন।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সুখেন্দু শেখর রায় তৃণমূল নেতৃত্বের সমালোচনা শুরু করেছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে কলকাতার আর.জি. কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক মহিলা জুনিয়র চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত গত মাসে রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন।
বর্তমান বিধানসভার সংখ্যার নিরিখে বিজেপি তিনটি আসনেই জয়ের সম্ভাব্য অবস্থানে রয়েছে। বিধানসভায় বর্তমানে বিজেপির ২০৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। একটি বিজেপি প্রার্থীকে হারাতে বিরোধী প্রার্থীর অন্তত ৭০টি ভোট প্রয়োজন হবে।
যদিও সরকারি হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ৮০ জন বিধায়ক রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৬০ জন বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ’ গোষ্ঠীর সঙ্গে রয়েছেন। বাকি ২০ জন ‘আসল কিন্তু সংখ্যালঘু’ গোষ্ঠীতে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত রয়েছেন।



















