কলকাতা, ৬ জুলাই (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম, নির্বাচনী প্রতীক এবং পরবর্তী সময়ে দলীয় তহবিলের অধিকার নিয়ে দলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে চলা আইনি লড়াইয়ে সোমবার গুরুত্বপূর্ণ দিন। ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা রয়েছে।
একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অপরদিকে, দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দাবি করা গোষ্ঠীও দলীয় নাম ও প্রতীকের অধিকার দাবি করেছে।
উভয় পক্ষই নিজেদের দাবির সমর্থনে নির্বাচন কমিশনের কাছে নথি ও যুক্তি পেশ করেছে। এবার কোন গোষ্ঠী তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, নির্বাচনী প্রতীক এবং দলীয় তহবিলের অধিকার পাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের আইনসভা দলে এবং গত মাসে গঠিত নতুন জাতীয় কার্যকরী কমিটি— উভয় ক্ষেত্রেই তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এই গোষ্ঠী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে প্রবীণ বিধায়ক অরূপ রায়কে দলের জাতীয় চেয়ারপার্সন ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী দুটি প্রধান যুক্তি তুলে ধরেছে। প্রথমত, বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়কেরা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়নে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে জিতে এসেছেন। তাই পরে তাঁরা দলীয় নাম ও প্রতীকের ওপর দাবি করতে পারেন না।
দ্বিতীয়ত, বিদ্রোহী গোষ্ঠী যে নতুন জাতীয় কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করেছে, তা কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গঠিত। ফলে সেটি বৈধ নয় এবং দলীয় নাম বা প্রতীকের দাবি করার অধিকারও তাদের নেই।
মমতা শিবির আরও দাবি করেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজীবনের জন্য দলের জাতীয় চেয়ারপার্সন হিসেবে পুনর্নির্বাচিত করা হয়েছিল। তাই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঘোষিত নতুন কমিটি সাংগঠনিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় নাম ও প্রতীক হারানোর সম্ভাবনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুটা আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
শনিবার সামাজিক মাধ্যমে লাইভ বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্রোহী শিবিরের একমাত্র উদ্দেশ্য হল তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, নির্বাচনী প্রতীক এবং পরে দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ দখল করা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি জানি, শেষ পর্যন্ত হয়তো আপনারা নির্বাচনী প্রতীকের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের সৌজন্যে যদি সেটাও চলে যায়, তাতেও আমি বিচলিত নই। মানুষ ও তৃণমূল স্তরের কর্মীরা যা মেনে নেন, সেটাই আসল। প্রয়োজন হলে আমি সেই প্রতীক গলায় ঝুলিয়ে মানুষের কাছে যাব। আমার কণ্ঠস্বর কি এভাবে থামিয়ে দিতে পারবেন? তা এত সহজ নয়। আমার কণ্ঠ রোধ করতে হলে আমাকে হত্যা করতে হবে।”



















