নিজস্ব প্রতিনিধি, সোনামুড়া, ৫ জুলাই:রাজ্যে নবজাতক, শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও কার্যকর, জনমুখী ও মানসম্মত করে তুলতে গত ৪ জুলাই, ২০২৬ মহাকরণে এক রাজ্যস্তরের পর্যালোচনা বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব মীরা শ্রীবাস্তব একাধিক নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব করেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ত্রিপুরা সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে।
নতুন উদ্যোগগুলির মধ্যে অন্যতম হল সমগ্র শিশু বাল স্বাস্থ্য কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় জন্ম থেকে ৩ বছর বয়সী প্রতিটি শিশুর পুষ্টি, পরিচর্যা, শারীরিক বৃদ্ধি এবং বিকাশ নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। শিশুর বয়সভিত্তিক বৃদ্ধি ও বিকাশের অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করা যায়।
প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে ইউ-উইন পোর্টালের সঙ্গে অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে মা ও শিশু পরিষেবা নিতে এলে তাদের প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করা হবে এবং পরীক্ষার ফলাফল ইউ-উইন পোর্টালে নথিভুক্ত করা হবে। এর ফলে পূর্ববর্তী পরীক্ষার তথ্য সহজেই দেখা যাবে এবং সেই অনুযায়ী নিয়মিত ফলো-আপ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সুরক্ষিত মাতৃত্ব আশ্বাসনের আওতায় সুমন রোডম্যাপ বাস্তবায়নের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলা, প্রসূতি এবং নবজাতকের জন্য নিরাপদ ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা। গর্ভাবস্থা থেকে প্রসব এবং প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য পরিসেবা প্রদানের মাধ্যমে মা ও নবজাতকের মৃত্যুহার হ্রাসে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শিশুদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে আরবিএসকে ২.০ বাস্তবায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এটি জাতীয় শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচির আধুনিকায়িত সংস্করণ, যার মাধ্যমে জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। জন্মগত ত্রুটি, বিভিন্ন রোগ, পুষ্টিজনিত ঘাটতি এবং বিকাশজনিত সমস্যার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য, আচরণগত সমস্যা এবং অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে। এর ফলে শিশুদের স্বাস্থ্য সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব মীরা শ্রীবাস্তব ১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে ৩ দিনের রাজ্য সফরে আসেন। তিনি উনকোটি জেলা, উত্তর জেলা, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা এবং সিপাহিজলা জেলা সফর করেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা, জাতীয় স্বাস্থ্য কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরার মিশন অধিকর্তা সাজু ওয়াহিদ এ, স্বাস্থ্য অধিকারের অধিকর্তা ডাঃ দেবশ্রী দেৰ্ব্বমা, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক অধিকারের অধিকর্তা ডাঃ অঞ্জন দাস সহ স্বাস্থ্য দফতরের অন্যান্য আধিকারিকগণ। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরা থেকে এক প্রেস রিলিজে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।



















