আগরতলা, ৪ জুলাই: আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করে তাদের জমি, জঙ্গল ও প্রাকৃতিক সম্পদ করপোরেট সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলল ডিওয়াইএফআই। এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, কর্মসংস্থানের অভাব, নেশার বিস্তার এবং বিভাজনের রাজনীতি দেশের যুব সমাজকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য জানান, ২০২৫ সালে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ১ লক্ষ থেকে বেড়ে ১ লক্ষ ২৫ হাজারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, যুব সমাজের জীবন-জীবিকার সমস্যা এবং তাদের অধিকার নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলেই সদস্য সংখ্যা বেড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চনার শিকার। সংবিধান তাদের যে অধিকার দিয়েছে, তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। উন্নয়নের নামে আদিবাসীদের জমি অধিগ্রহণ করে বড় করপোরেট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিজেপি সংরক্ষণ ব্যবস্থা দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য আরও বলেন, মনরেগা কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আদিবাসী যুবকদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাই মনরেগা চালু রাখা এবং ২০০ দিনের কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে আদিবাসীদের জনগণনায় যথাযথ পরিচয় নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
ত্রিপুরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যে বড় শিল্প গড়ে ওঠেনি, সরকারি দফতরে বহু পদ শূন্য রয়েছে এবং যুব সমাজের একাংশ মাদকাসক্তির শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন মাদক পাচারকারীর সঙ্গে বিজেপির যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মাদকের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে যুবকদের শামিল হওয়ার আহ্বান জানান ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব।
ডিওয়াইএফআই-এর কেন্দ্রীয় নেতা বিকাশ ঝা বলেন, দেশে বেকারত্ব, সামাজিক বিভাজন ও পরিবেশ ধ্বংসের রাজনীতি চলছে। উন্নয়নের নামে জঙ্গল, নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ করপোরেটদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আসাম রাজ্য সম্পাদক নিরঙ্কুশ নাথও বিজেপির বিরুদ্ধে আদিবাসীদের জমি করপোরেট সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিওয়াইএফ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কুমুদ দেববর্মা, পশ্চিমবঙ্গ ডিওয়াইএফআই নেত্রী সোনামণি টুডু, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
























