নয়াদিল্লি, ৪ জুলাই (আইএএনএস): দেশের অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ডিজেলে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ আইসোবিউটানল মিশ্রণের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি জানিয়েছেন, প্রচলিত ডিজেলের বিকল্প হিসেবে আইসোবিউটানল একটি সম্ভাবনাময় জৈব জ্বালানি।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গত ৪ জুন ভারতের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল যাত্রীবাহী গাড়ির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গড়করি বলেন, ইথানল সরাসরি ডিজেলের সঙ্গে মেশানো যায় না। তাই ইথানল থেকেই আইসোবিউটানল তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, “আইসোবিউটানল ডিজেলের কার্যকর বিকল্প হতে পারে। ডিজেলে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত আইসোবিউটানল মিশ্রণের অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও আমরা কাজ করছি।”
গড়করি জানান, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি এবং কৃষি সরঞ্জামে ইতিমধ্যেই আইসোবিউটানলের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় এই জ্বালানির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি ১০০ শতাংশ ইথানল ও আইসোবিউটানলে চলা দুটি জেনারেটর চালু করেছি। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, এই জ্বালানিতে চলতে সক্ষম ইঞ্জিন তৈরি করা সম্ভব।”
মন্ত্রী জানান, ডিজেলে আইসোবিউটানল মিশ্রণের এই পরিকল্পনা বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানো এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের বৃহত্তর সরকারি কৌশলের অংশ।
এছাড়া ইথানল, টেকসই বিমান জ্বালানি (এসএএফ), বায়ো-সিএনজি, মিথানল, বায়োডিজেল, এলএনজি, হাইড্রোজেন এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসারেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
গড়করি বলেন, বিকল্প জ্বালানির ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি হলেও ভারত এখনও বিপুল পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করে। তাই দেশের জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
তিনি গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির প্রতি ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির উন্নয়ন দ্রুততর করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে বিদ্যমান বিএস-৬ (ইউরো-ভিআই) মানের গাড়িগুলিকে ফ্লেক্স-ফুয়েল উপযোগী করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন।
______



















