নয়াদিল্লি, ৪ জুলাই (আইএএনএস): দিল্লি পুলিশের দক্ষিণ জেলার অ্যান্টি অটো থেফট স্কোয়াড (এএটিএস) আন্তঃরাজ্য ‘ঠক-ঠক’ চক্রের দুই কুখ্যাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা নগদ, গয়না, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, চুরির সরঞ্জাম এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি স্কুটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযানের ফলে দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে (এনসিআর) নথিভুক্ত তিনটি চুরি ও বাড়িতে চুরির মামলারও কিনারা হয়েছে।
ধৃতদের পরিচয় গঙ্গেশ নাইডু (৪০) এবং বিক্রম (৩৩) বলে জানা গেছে। দু’জনেই দক্ষিণপুরী, আম্বেদকর নগরের বাসিন্দা। দিল্লি, হরিয়ানা এবং কর্নাটকে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক মামলার রেকর্ড রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ঠক-ঠক’ চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যের গতিবিধি সম্পর্কে গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর ৩০ জুন এএটিএস একটি বিশেষ অভিযান চালায়। পরিকল্পিত ফাঁদ পেতে দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ এবং তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ চোরাই মাল, যার মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, গয়না, রুপোর সামগ্রী, চুরির সরঞ্জাম এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি স্কুটি।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃতরা এমন একটি আন্তঃরাজ্য চক্রের সদস্য, যারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বের হওয়া বা মূল্যবান জিনিস বহনকারী ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করত। চক্রের এক সদস্য গাড়ির টায়ার পাংচার হয়েছে বা তেল লিক করছে বলে চালকের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দিত। সেই সুযোগে অন্য সদস্য গাড়ি থেকে নগদ টাকা, গয়না, ল্যাপটপ বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ভর্তি ব্যাগ চুরি করে স্কুটিতে চম্পট দিত। এই কৌশলই ‘ঠক-ঠক’ পদ্ধতি নামে পরিচিত।
পুলিশের উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৬ লক্ষ টাকা নগদ, দুটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, একটি ম্যাকবুক, পাঁচটি সোনার রঙের বালা, তিনটি সোনার রঙের চেন, প্রায় ১.১ কেজি রুপোর সামগ্রী, একটি হাতঘড়ি, স্যামসাং ইয়ারবাড, চুরির সরঞ্জাম এবং একটি স্কুটি।
তদন্তে তিনটি মামলার সমাধান হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লির আম্বেদকর নগর ও নেব সরাই থানায় দায়ের হওয়া দুটি ই-এফআইআর এবং হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর-৬৫ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৩০৫ ও ৩২৪(২) ধারায় দায়ের হওয়া একটি মামলা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গেশ নাইডুর বিরুদ্ধে ৩০টিরও বেশি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে, যার অধিকাংশই চুরির। অন্যদিকে বিক্রমের বিরুদ্ধেও দিল্লি, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদ-সহ বিভিন্ন জায়গায় চুরি, ডাকাতি এবং অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের অন্যান্য সহযোগীদের চিহ্নিত করা, আরও অমীমাংসিত মামলায় তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ সংগ্রহ, বাকি চোরাই মাল উদ্ধার এবং আন্তঃরাজ্য ‘ঠক-ঠক’ চক্রের গোটা নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



















