পুনে, ৩ জুলাই (আইএএনএস) : পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তাঁর বাগদত্তা সিয়া গয়াল এবং কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল পুনের ভাদগাঁও আদালত।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, পুলিশ আদালতের কাছে আরও তিন দিনের হেফাজতের আবেদন করেছিল। তদন্তকারীদের বক্তব্য, মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি খতিয়ে দেখতে দুই অভিযুক্তকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এছাড়া মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক চ্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ এখনও উদ্ধার ও বিশ্লেষণ করা বাকি রয়েছে।
তবে পুলিশের হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আদালত সিয়া গয়াল ও চেতন চৌধুরীকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এর আগে আদালত প্রথমে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের অনুমতি দিয়েছিল। পরে তদন্তের স্বার্থে আরও চার দিন সেই মেয়াদ বাড়ানো হয়। ফলে মোট ১১ দিন ধরে দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুনে গ্রামীণ পুলিশ।
এদিকে, তদন্তকারী সংস্থা দুই অভিযুক্তের পলিগ্রাফ (লাই ডিটেক্টর) পরীক্ষা করানোর অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালত প্রথমে অভিযুক্তদের নোটিস পাঠাবে এবং তাঁদের সম্মতি নেওয়ার পর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
তদন্তে আরও একটি নতুন মোড় এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে আরও এক সন্দেহভাজনের নাম উঠে এসেছে। তিনি চেতন চৌধুরীর এক প্রাক্তন সহপাঠী বলে তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড ঘটার আগেই কেতন আগরওয়ালকে খুনের পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত ছিলেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, সিয়া ও চেতন তাঁর সঙ্গেও এই হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। বর্তমানে ওই ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার পুলিশ সিয়া গয়ালকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে ঘটনার সময় পরা হয়েছে বলে সন্দেহ করা পোশাক, একটি মোবাইল ফোন এবং তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এরপর সিয়াকে পুনের লুল্লানগর এলাকার একটি ক্যাফেতেও নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সেখানেই কেতন আগরওয়ালকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে সিয়ার বক্তব্য নথিভুক্ত করার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে পুলিশ।



















