অভিজিৎ রায় চৌধুরী
নয়াদিল্লি, ৩ জুলাই : আগামী ২০ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একাধিক বিতর্কিত ইস্যুতে সরকারকে চাপে ফেলতে বিরোধীরা প্রস্তুতি নেওয়ায় অধিবেশন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট অযোধ্যা ট্রাস্টের অনুদান সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ এবং মধ্যপ্রদেশের কথিত জমি কেলেঙ্কারি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি তুলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশের জমি বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রীর জবাবদিহি দাবি করে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে। ফলে লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই তুমুল বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকার তাদের আইন প্রণয়নের কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-র শক্তি আরও বাড়তে পারে বলে শাসক শিবির আশাবাদী। সংসদে সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে গুরুত্বপূর্ণ বিল এবং অন্যান্য সাংবিধানিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সরকারের পক্ষে সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অধিবেশনে লোকসভার স্পিকারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও সামনে আসতে পারে। বিদ্রোহী ২০ জন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের এনসিপিআই-তে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব এবং শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে যুক্ত শিবসেনা (ইউবিটি)-র ভাঙন গোষ্ঠীর ছয় সাংসদের অবস্থান নিয়ে স্পিকার ওম বিড়লা-র সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল। এই সিদ্ধান্তগুলির সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া বিচারপতি জাস্টিস ভার্মা-র বিরুদ্ধে অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) সংক্রান্ত রিপোর্টও এই অধিবেশনে লোকসভায় পেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রিপোর্ট পেশের পর তাঁকে অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে সংসদে প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর একাধিক ইস্যু, গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন এবং সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে এবারের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলতি বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত সংসদীয় অধিবেশন হতে চলেছে।



















