শ্রীনগর, ১ জুলাই (আইএএনএস): বিশ্বের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জম্মু-কাশ্মীরকে মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি।
ভারত ও পাকিস্তানের শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ-কে চিঠি পাঠানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মেহবুবা বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে।
তিনি বলেন, ইরান কীভাবে তার কৌশলগত অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালী-কে কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী দেশ আমেরিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে, তা সাম্প্রতিক ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, জম্মু-কাশ্মীরও একইভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে।
মেহবুবা বলেন, “যেমন ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালী রয়েছে, তেমনই ভারতের কাছে জম্মু-কাশ্মীর রয়েছে। এটি মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাণিজ্য ও যোগাযোগের পথ খুলতে হবে। সেই জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি এবং পাকিস্তানের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করা জরুরি। তাঁর দাবি, এতে জম্মু-কাশ্মীরে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে।
মেহবুবা মুফতি এবং তাঁর প্রয়াত বাবা মুফতি মোহাম্মদ সাঈদ দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন।
মুফতি মহম্মদ সইদের প্রতিষ্ঠিত জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি)-র নেতৃত্ব বর্তমানে মেহবুবা মুফতির হাতে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে মুফতি মহম্মদ সইদের মৃত্যুর পর তিনি দলের সভাপতির পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও গ্রহণ করেন।
২০১৪ সালে পিডিপির রাজনৈতিক প্রচারে অন্যতম জনপ্রিয় স্লোগান ছিল, ‘গুলি সে নাহি, বোলি সে’— অর্থাৎ, বন্দুক নয়, সংলাপের মাধ্যমেই শান্তির পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।



















