নয়াদিল্লি, ১ জুলাই (আইএএনএস): পাকিস্তানের জেলে সাজা সম্পূর্ণ করা ১৮৮ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী ও বেসামরিক বন্দিকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরানোর আহ্বান জানাল ভারত।
বুধবার কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদে ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরের হেফাজতে থাকা বেসামরিক বন্দি ও মৎস্যজীবীদের তালিকা বিনিময় করে। এরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) পাকিস্তানের কাছে দ্রুত বন্দিমুক্তি ও প্রত্যাবাসনের দাবি জানায়। পাশাপাশি আটক মৎস্যজীবীদের নৌকাও ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া পাকিস্তানের হেফাজতে থাকা নিখোঁজ ভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্মীদের সম্পর্কেও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানায় ভারত।
২০০৮ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত কনস্যুলার অ্যাক্সেস চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি এবং ১ জুলাই উভয় দেশ নিজেদের হেফাজতে থাকা বেসামরিক বন্দি ও মৎস্যজীবীদের তালিকা বিনিময় করে।
ভারত এদিন নিজেদের হেফাজতে থাকা ৩৮৬ জন পাকিস্তানি বা পাকিস্তানি বলে মনে করা বেসামরিক বন্দি এবং ৫৩ জন মৎস্যজীবীর তালিকা পাকিস্তানকে দেয়। অন্যদিকে, পাকিস্তান তাদের হেফাজতে থাকা ৫২ জন ভারতীয় বা ভারতীয় বলে মনে করা বেসামরিক বন্দি এবং ১৯৮ জন মৎস্যজীবীর তালিকা ভারতের হাতে তুলে দেয়।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত সরকার ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তানের কাছে বেসামরিক বন্দি, মৎস্যজীবী, তাঁদের নৌকা এবং নিখোঁজ ভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্মীদের দ্রুত মুক্তি ও প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় সাজা সম্পূর্ণ করা ১৮৮ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী ও বেসামরিক বন্দিকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরানোর জন্য পাকিস্তানকে আবারও অনুরোধ করা হয়েছে।
এছাড়া পাকিস্তানের হেফাজতে থাকা ১৩ জন ভারতীয় বা ভারতীয় বলে মনে করা বেসামরিক বন্দির এখনও কনস্যুলার অ্যাক্সেস মেলেনি বলেও জানিয়েছে এমইএ। ভারত অবিলম্বে তাঁদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ভারত আরও বলেছে, মুক্তি ও প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত পাকিস্তানের হেফাজতে থাকা সব ভারতীয় ও ভারতীয় বলে মনে করা বন্দিদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে।
এমইএ-র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে ভারতের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে পাকিস্তান থেকে মোট ২,৬৬১ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী এবং ৭৮ জন ভারতীয় বেসামরিক বন্দি দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে ২০২৩ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ৫০০ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী এবং ২০ জন বেসামরিক বন্দিকে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
























