ইম্ফল, ১ জুলাই (আইএএনএস): মাদক পাচার ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সমন্বিত, ধারাবাহিক এবং বহু-সংস্থার যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। বুধবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি)-র ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল আর. সুধাকরের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই বার্তা দেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মাদক পাচার ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক অভিযানের মাধ্যমে এই লড়াই আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (সিএমও) সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ আরও শক্তিশালী করা, রাজ্য, কেন্দ্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং ১৯৮৫ সালের নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (এনডিপিএস) আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে মাদক পাচার ও পাচারচক্র ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকার কারণে মণিপুর ও মিজোরাম উত্তর-পূর্ব ভারতে মাদক পাচারের অন্যতম প্রধান করিডরে পরিণত হয়েছে। মিয়ানমার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অবৈধ মাদক উৎপাদনকারী অঞ্চল ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’-এর অংশ হওয়ায় এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
মণিপুরের চুরাচাঁদপুর, তেংনৌপাল, চান্দেল, কামজং এবং উখরুল—এই পাঁচটি জেলার সঙ্গে মিয়ানমারের ৩৯৮ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত রয়েছে। ফলে এই এলাকাগুলি দিয়ে মাদক ও অন্যান্য চোরাচালানের প্রবণতা বেশি।
একইভাবে মিজোরামেরও মিয়ানমারের সঙ্গে ৫১০ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ৩১৮ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত রয়েছে। ফলে আন্তঃদেশীয় মাদক পাচারের ক্ষেত্রে রাজ্যটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মণিপুর, মিজোরাম ও দক্ষিণ অসমকে সংযুক্ত করে একাধিক মাদক পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়াতে বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে রাজ্যগুলির মধ্যে মাদক পাচার করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে আইজলের এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানান, চলতি সপ্তাহে মিজোরাম পুলিশ অসমের কাছাড় জেলার দুই অভিযুক্ত মাদক পাচারকারী এবং মণিপুরের চান্দেল জেলার এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৭.৪০ কোটি টাকা মূল্যের হেরোইন।
অন্যদিকে, গত ১ জুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মণিপুরের পুলিশ মহাপরিচালক মুকেশ সিং রাজ্যের বিভিন্ন জেলা সফর করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মাদকবিরোধী অভিযানে।
জেলা পুলিশ কর্তাদের তিনি গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক অভিযান আরও জোরদার করা, মাদক পাচার ও চোরাচালান চক্র ভেঙে দেওয়া এবং রাজ্যে মাদকের বিস্তার রোধে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
পাশাপাশি ইম্ফল উপত্যকা ও পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠনকেও (সিএসও) মাদকবিরোধী প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদক পাচার রুখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিচালক।
______



















