সুরাট, ১ জুলাই (আইএএনএস): গুজরাটের সুরাটে নাসিরনগর এলাকায় শতাধিক বাড়ি ভাঙার বিতর্কিত ঘটনায় পাঁচজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং আধিকারিককে অবিলম্বে বরখাস্ত করেছে সুরাট পৌর কর্পোরেশন (এসএমসি)। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে গুজরাট হাইকোর্ট-এর পর্যবেক্ষণও অব্যাহত রয়েছে।
এসএমসি সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত যাতে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেই উদ্দেশ্যেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া আধিকারিকরা হলেন এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুজলকুমার প্রজাপতি ও জয়াং জীবনরামজিওয়ালা, ডেপুটি ইঞ্জিনিয়ার অর্পণ পরমার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মনিক গাধিয়া এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার নরেশকুমার গালচার।
ঘটনাটি গত ৩০ মে সুরাটের সেন্ট্রাল জোনের নাসিরনগরে চালানো উচ্ছেদ অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনও পূর্ব নোটিস বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই প্রায় ১০৬টি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়।
এই ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের একাংশ গুজরাট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এরপরই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিচারবিভাগীয় পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
তদন্তে বিশেষভাবে নজরে রয়েছেন এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জয়াং জীবনরামজিওয়ালা, যিনি সংশ্লিষ্ট জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক হিসেবে উচ্ছেদ অভিযান তদারকি করছিলেন। অভিযানের সময় মাথায় রুমাল বেঁধে তাঁকে ঘটনাস্থলে দেখা যাওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। পরে জনসমালোচনা বাড়তে থাকায় তিনি ৮ জুন থেকে এক সপ্তাহের ছুটিতে যান বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুজলকুমার প্রজাপতির ভূমিকাও তদন্তের আওতায় এসেছে। অভিযোগ, উচ্ছেদস্থল তাঁর অধিক্ষেত্রে না পড়লেও তিনি তিনটি পোকলেন এক্সকাভেটর, দুটি জেসিবি ব্রেকার মেশিন এবং প্রায় ৬০ জন শ্রমিক মোতায়েনের নির্দেশ দেন। এছাড়া পুলিশের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিলেও তাঁর দফতরের কোনও আধিকারিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তাধীন।
গত ২৯ জুন মামলার শুনানিতে গুজরাট হাইকোর্ট সুরাটের পুলিশ কমিশনার অনুপম সিং গাহলৌত-এর কাছে জানতে চায়, পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও কেন ১৬ দিন ধরে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আদালত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার-সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলে এবং মামলায় নাম থাকা এক বেসরকারি নির্মাণ সংস্থাকেও নোটিস জারি করে।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ‘রাস্তার সীমানা নির্ধারণ’-এর আড়ালে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। আদালতের মতে, যদি উচ্ছেদ বেআইনি হয়ে থাকে, তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মীদের তা প্রতিরোধ করার দায়িত্ব ছিল।
হাইকোর্ট এসএমসি-কে অভ্যন্তরীণ তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কোনও বেসরকারি প্রকল্পকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল কি না। তবে এই অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি এবং বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার পরবর্তী শুনানি ২ জুলাই। ওইদিন এসএমসি-র তদন্ত রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও অন্যান্য পক্ষের জবাবদিহি নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা।
























