নয়াদিল্লি/বেঙ্গালুরু, ১ জুলাই (আইএএনএস): কর্নাটকের বেলগাভিতে আগামী ১০ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী প্রান্ত প্রচারক (রাজ্য প্রচারক) বৈঠক করবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে সম্প্রতি আরএসএসের কাছে সংগঠনের নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবি তোলার পর এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, এই বার্ষিক সাংগঠনিক বৈঠকে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রান্ত প্রচারক এবং আরএসএস-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন।
বৈঠকে গত এক বছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পর্যালোচনার পাশাপাশি আগামী কয়েক মাসের কর্মসূচি ও সংগঠন সম্প্রসারণের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়া সাংগঠনিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা, চলমান কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা, জনসংযোগ কর্মসূচির বিস্তার এবং আরএসএস ও তার সহযোগী সংগঠনগুলির ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা হবে।
বিভিন্ন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীরা নিজ নিজ অঞ্চলের সাংগঠনিক অগ্রগতির রিপোর্টও পেশ করবেন এবং তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কৌশল নিয়ে মতবিনিময় করবেন।
আরএসএসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বৈঠক হিসেবে প্রান্ত প্রচারক বৈঠককে বিবেচনা করা হয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, মতামত বিনিময় এবং সর্বভারতীয় কর্মসূচির রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়। ১২ জুলাই বৈঠক শেষ হওয়ার কথা।
প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে চিঠি লিখে সংগঠনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করার এবং তাদের আইনি অবস্থান, অর্থায়ন, আর্থিক লেনদেন, পদাধিকারী, সম্পত্তি ও কর-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করার দাবি জানান। তাঁর যুক্তি ছিল, আরএসএসের মতো বড় ও প্রভাবশালী সংগঠনের আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে খাড়্গে বলেন, আরএসএসের অনুষ্ঠান ও শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের উপর থাকে। তাই সরকার সংগঠন সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইতেই পারে। তিনি বলেন, “আমি জানতে চাই, কাদের নিরাপত্তা দিচ্ছি।” একই সঙ্গে তিনি বিজেপির এই অভিযোগও অস্বীকার করেন যে তিনি আরএসএসকে নিষিদ্ধ করতে চাইছেন।
খাড়্গের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার নেয়। বিজেপি ও আরএসএস তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংগঠনকে নিশানা করার অভিযোগ তোলে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, সংগঠনের “লুকোনোর কিছু নেই” এবং এই দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
পরে বিষয়টি আইনি জটিলতাও তৈরি করে। খাড়্গের মন্তব্যের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ গ্রহণ করে বেঙ্গালুরুর একটি আদালত তাঁকে সমন জারি করে। এর ফলে আরএসএস ইস্যুতে কংগ্রেস ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
_______



















