গুয়াহাটি, ১ জুলাই: অসম সরকারের শিক্ষা-কেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে রাজ্যের ৩৬ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া উপকৃত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর বক্তব্য, সরকারের একাধিক কল্যাণমূলক পদক্ষেপের ফলে পরিবারের আর্থিক চাপ কমেছে এবং পড়ুয়ারা তাদের শিক্ষার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাচ্ছে।
বুধবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অসমের ৩৬ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়ার জীবনে আমাদের বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”
তিনি আরও জানান, সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে অভিভাবকদের শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় অনেকটাই কমেছে। তাঁর কথায়, “আমাদের সব প্রচেষ্টার লক্ষ্য পরিবারের আর্থিক বোঝা কমানো, যাতে প্রত্যেক শিশু নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।”
মুখ্যমন্ত্রীর শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৪,৫২৩টি স্কুল এই শিক্ষা অভিযানের আওতায় এসেছে, যা কর্মসূচির ব্যাপক বিস্তারেরই প্রমাণ।
রাজ্য সরকার গত কয়েক বছরে বিদ্যালয় শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক প্রকল্প চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল পরিকাঠামোর উন্নয়ন, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও ইউনিফর্ম বিতরণ, সাইকেল ও বৃত্তি প্রদান, পড়ুয়াদের ভর্তি ও বিদ্যালয়ে ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ।
এছাড়াও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির আধুনিকীকরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।
সরকারি আধিকারিকদের দাবি, গ্রামীণ এলাকা ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের পড়ুয়াদের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার মান এবং স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একাধিকবার জানিয়েছেন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তাঁর মতে, অসমের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষায় বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজ্যের ধারাবাহিক বাজেটেও শিক্ষা খাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার লক্ষ্য পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, ডিজিটাল শিক্ষার সুবিধা বৃদ্ধি এবং পড়ুয়াদের কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে আরও শক্তিশালী করা। পাশাপাশি, স্কুলছুটের হার কমানো এবং শিশুদের জন্য আরও উন্নত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতেও সরকার একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সূত্র: আইএএনএস
























