নয়াদিল্লি, ১৫ জুন (আইএএনএস): সোমবতী অমাবস্যা উপলক্ষে সোমবার দেশজুড়ে দেখা গেল গভীর ধর্মীয় ভক্তি ও আস্থার অনন্য ছবি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত পবিত্র নদী ও তীর্থস্থানে সমবেত হয়ে পুণ্যস্নান, পূজা-অর্চনা, দান-ধ্যান এবং পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করেন। শান্তি, সমৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক কল্যাণের কামনায় দিনটি বিশেষ শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হয়।
উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে গঙ্গার তীরে অবস্থিত ত্রিবেণী ঘাটে ভোর থেকেই ভক্তদের ভিড় জমে। হাজার হাজার মানুষ গঙ্গাস্নান করে পূজা ও দানধর্মের মাধ্যমে দিনটির পবিত্রতা পালন করেন।
হরিয়ানার জিন্দ জেলার ঐতিহাসিক পাণ্ডু পিণ্ডারা তীর্থস্থানেও সকাল থেকেই ভক্তদের ঢল নামে। অনেক তীর্থযাত্রী ভোর ৪টার আগেই সেখানে পৌঁছে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এক ভক্ত আইএএনএস-কে বলেন, “সোমবতী অমাবস্যার বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। আমরা ভোর চারটায় এখানে পৌঁছেছি পুণ্যস্নান ও আশীর্বাদ লাভের উদ্দেশ্যে।”
রাজস্থানের ধোলপুর জেলার বিখ্যাত মচকুণ্ড তীর্থস্থানেও একই ধরনের ভক্তিমূলক পরিবেশ দেখা যায়। হাজার হাজার ভক্ত পবিত্র জলাশয়ে স্নান করে প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করেন।
মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরমে নর্মদা নদীর সেতানি ঘাটে এক লক্ষেরও বেশি ভক্ত সমবেত হন। বিশাল জনসমাগম সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ও বিশেষ ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে ত্রিবেণী সঙ্গমেও পুণ্যস্নানের জন্য বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। স্নানের পাশাপাশি বহু মানুষ দান-পুণ্য ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও অংশ নেন।
এক ভক্ত বলেন, “বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে পুণ্যস্নান ও দান করলে আধ্যাত্মিক পুণ্যলাভ হয় এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ মেলে।”
সঙ্গমে উপস্থিত এক সাধু বলেন, “হিন্দু ধর্মীয় পঞ্জিকায় এটি অত্যন্ত পবিত্র সময়। যারা আগে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেননি, তারাও আজ পুণ্যস্নানের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সুফল অর্জন করতে পারেন।”
অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে শিপ্রা নদীর তীরে হাজার হাজার মানুষ পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালন করেন। পাশাপাশি শিবমন্দিরগুলিতেও ভক্তদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। এ বছর অধিক মাসের সঙ্গে সোমবতী অমাবস্যার সংযোগ থাকায় দিনটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সনাতন ধর্মে সোমবতী অমাবস্যাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি হিসেবে গণ্য করা হয়। সোমবারে অমাবস্যা তিথি পড়লেই তাকে সোমবতী অমাবস্যা বলা হয়। এই দিনে পিতৃ তর্পণ, পিণ্ডদান, দান-ধ্যান এবং আত্মশুদ্ধির বিভিন্ন আচার পালন করা বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়।
এক বছরে পালিত ১২টি অমাবস্যার মধ্যে সোমবতী অমাবস্যাকে বিশেষ শক্তিশালী ও ফলদায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন গঙ্গা, নর্মদা, শিপ্রা প্রভৃতি পবিত্র নদীতে স্নান করলে শান্তি, সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ হয়। সেই কারণেই হিন্দু ধর্মীয় পঞ্জিকায় এটি অন্যতম শ্রদ্ধেয় ও পবিত্র দিন হিসেবে বিবেচিত।
























