রায়পুর, ১৩ জুন (আইএএনএস): ছত্তীসগঢ়ে নকশালবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বিজাপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নকশালদের আটটি অস্ত্র ও গোলাবারুদের গোপন ভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং আইইডি তৈরির সরঞ্জাম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কমান্ড্যান্ট আনন্দ কুমার-এর নেতৃত্বে একটি যৌথ বাহিনী বিজাপুর জেলার পিডিয়া ও কুপ্পাগুড়া এলাকার অন্তর্গত আদ্রি, হাররা এবং মাদুমপারা গ্রামের ঘন জঙ্গলে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং ধাপে ধাপে তল্লাশি চালায়, যাতে কোনও দিক দিয়ে নকশালরা পালাতে না পারে। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলায় ব্যবহার করা হতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার (বিজিএল) রাইফেল, একটি ৮ মিমি রাইফেল, একটি ১২-বোর রাইফেল এবং ২১টি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। এছাড়াও আইইডি তৈরির জন্য ব্যবহৃত কর্ডেক্স তার, সেফটি ফিউজ, বৈদ্যুতিক তার, এয়ারগানের গুলি এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জামও উদ্ধার হয়েছে।
পাশাপাশি নকশালদের ব্যবহৃত পোশাক-সহ মোট ৫৮টি বিভিন্ন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, এই উদ্ধার অভিযানের ফলে এলাকায় অস্থিরতা তৈরির একটি বড় চক্রান্ত ভেস্তে গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদ্রি-হাররা-মাদুমপারা অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই নকশালদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে সিআরপিএফের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে এলাকায় নকশাল প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে উন্নয়নমূলক কাজও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অভিযানে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, যা বাহিনীর সতর্ক ও নিখুঁত পরিকল্পনারই প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, সমান্তরাল আরেকটি অভিযানে গারিয়াবন্দ জেলায় ডান্ডাইপানি জঙ্গলে নকশালদের আরেকটি সম্ভাব্য গোপন ভাণ্ডারের সন্ধান পায় সিআরপিএফ ও পুলিশ। বোমা সনাক্তকরণ এবং নিষ্ক্রিয়করণ স্কোয়াড (বিডিডিএস) সেখানে ৪ কেজি ওজনের একটি প্রেসার আইইডি এবং একটি কুকার আইইডি শনাক্ত করে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।
এছাড়া একটি ভরমার রাইফেল, ইন্টারসেপ্টর, ইউবিজিএল রাউন্ড, ম্যাগাজিন, কর্ডেক্স তার, বারুদ, আতশবাজি, ওষুধপত্র এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।
সিআরপিএফ জানিয়েছে, ছত্তীসগঢ়কে নকশালমুক্ত করতে এবং রাজ্যে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
























