ঢাকা, ৯ জুন (আইএএনএস): বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় ও মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় দলের প্রাক্তন সাংসদ ও নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) বিলি কেলেহারের সঙ্গে বৈঠক করে আওয়ামী লীগের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।
সোমবার আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে “ন্যায্য রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা” এবং “মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নের” আহ্বান জানায়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও আয়ারল্যান্ডের প্রাক্তন মন্ত্রী বিলি কেলহের, আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাংসদ মোঃ হাবিবে মিল্লাত, আয়ারল্যান্ড ছাত্রলীগের সভাপতি নোমান চৌধুরী, আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের নেতা রফিক খান এবং ফিয়ানা ফেইলের ছাত্র সংগঠনের সভাপতি রাদিন খান। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধি দল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কাছে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, সাংসদ এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” মামলাগুলিতে জামিন নিশ্চিত করা এবং দলের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সমর্থন চায়।
বৈঠকে হাবিবে মিল্লাত বাংলাদেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ সদস্যদের হত্যার ঘটনা, গণপিটুনি ও সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, জঙ্গিবাদের উত্থান এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রতিনিধি দলের উত্থাপিত বিষয়গুলির প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে বিলি কেলেহার জানান, তিনি বিষয়গুলি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে উত্থাপন করতে আগ্রহী এবং আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের উপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির বিষয়টিও বিবেচনা করবেন।
এদিকে ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ) জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৩০০-রও বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হওয়া “গণগ্রেফতার, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, বিচারিক হয়রানি” এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মিছিল এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করায় ওই ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
জেএমবিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, এই পদক্ষেপগুলি গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মৌলিক মানবাধিকারের উপর গুরুতর আঘাত। তাদের মতে, এগুলি বিচ্ছিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন, ভিন্নমতকে ভয় দেখানো এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ।
সংগঠনটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ১ জুন থেকে ৭ জুনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলির অন্তত ৩৩৩ জন নেতা, কর্মী ও সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন কঠোর আইনে মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
জেএমবিএফ রাষ্ট্রসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতি বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গণগ্রেফতার, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচারিক প্রক্রিয়া এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধের বিষয়গুলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আবেদন করেছে।



















