নয়াদিল্লি, ৯ জুন (আইএএনএস): এফআইআর নথিভুক্ত হওয়ার মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যেই একটি খুনের মামলার কিনারা করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের শাহদারা জেলার গান্ধীনগর থানার পুলিশ। অভিযুক্তের কাছ থেকে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ঘটনার সময় পরা রক্তমাখা পোশাকও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫ জুন ডা. হেডগেওয়ার হাসপাতালে ছুরিকাঘাতে জখম এক ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। আহতের নাম কৃষাণ কুমার।
খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে ঘটনার বিষয়ে জানার চেষ্টা করে। কিন্তু গুরুতর জখমের কারণে কৃষাণ কুমার হামলার বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারেননি বা হামলাকারীকে শনাক্ত করতে পারেননি। পরে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আইনি পদক্ষেপ নিতেও অনীহা প্রকাশ করেন।
পরদিন ৬ জুন জিটিবি হাসপাতাল থেকে পুলিশকে জানানো হয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষাণ কুমারের মৃত্যু হয়েছে।
এরপর ঘটনাটিকে খুনের মামলা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু হয়। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় গান্ধীনগর থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) ইন্সপেক্টর রাজ কুমারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। তদন্তে ছিলেন ইন্সপেক্টর রবিন সিংহ, এসআই বিকাশ কুমার, হেড কনস্টেবল রাহুল চৌধুরী ও হেড কনস্টেবল আমন বানসাল। গোটা তদন্তের তদারকি করেন এসিপি মানস্বী বশিষ্ঠ এবং শাহদারা জেলার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মৃত কৃষাণ কুমার গান্ধীনগরের রঘুবরপুরা-২ এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। কারখানার মালিক ও কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে যে, ৪ জুন রাতে কারখানার ভেতরে মদ্যপানের সময় কয়েকজন শ্রমিকের মধ্যে বচসা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বচসার এক পর্যায়ে আরওয়াজ নামে এক শ্রমিক প্রথমে ‘টাইগার’ নামে পরিচিত আরেক শ্রমিকের উপর হামলা চালায় এবং পরে কাঁচি দিয়ে কৃষাণ কুমারকে আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশের মতে, ওই হামলায় প্রাপ্ত আঘাতের জেরেই কৃষাণ কুমারের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ৭ জুন গান্ধীনগর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১০৩(১) ধারায় এফআইআর নম্বর ২১৬/২০২৬ নথিভুক্ত করা হয়।
এফআইআর দায়েরের পরই অভিযুক্তকে ধরতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়, প্রযুক্তিগত নজরদারি চালানো হয় এবং স্থানীয় সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
তদন্তের ভিত্তিতে এফআইআর দায়েরের মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর নগর এলাকা থেকে ২৭ বছর বয়সি অভিযুক্ত আরওয়াজকে গ্রেফতার করা হয়। সে দক্ষিণ দিল্লির সঙ্গম বিহার এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের জেরায় আরওয়াজ অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি। তার দেখানো মতে উদ্ধার করা হয়েছে রক্তমাখা একটি কাঁচি, যা খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে ঘটনার সময় পরা রক্তমাখা পোশাক।
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, কিশোর বয়সেই আরওয়াজ একটি গুরুতর অপরাধমূলক মামলায় জড়িয়েছিল। নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সঙ্গম বিহার থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তার নাম ছিল।
পুলিশের দাবি, দ্রুত গ্রেফতারি, অস্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধার এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের ফলে মামলার দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।
_______



















