আগরতলা, ৮ জুন: দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ৯ জুন মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি ল্যান্ড পোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলপিএমএস)-এর উদ্বোধন করবেন। একইসঙ্গে মেঘালয়ের ডাউকি এবং ত্রিপুরার শ্রীমন্তপুর স্থলবন্দরে নবনির্মিত অংশীজন আবাসন সুবিধারও উদ্বোধন করা হবে। যা সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য পরিকাঠামোগত সহায়তাকে আরও জোরদার করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট’-এর ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চালু করা হচ্ছে এই অত্যাধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং যাত্রী চলাচলের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এলপিএমএস একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা দেশের স্থলবন্দরগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রমকে একই ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসবে। এই ব্যবস্থায় স্লট বুকিং, অনলাইন পেমেন্ট, ট্র্যাকিং, সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন পরিষেবা ডিজিটালভাবে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি এটি আইসগেট, ইউলিপ এবং মোটরযান সংক্রান্ত জাতীয় ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, ফলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত, কার্যকর ও আন্তঃসংযুক্ত হয়ে উঠবে।
এল.পি.এম.এস-এর সূচনা আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর স্মার্ট সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার দিকে ভারতের যাত্রাপথে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে, যা বাণিজ্য সুবিধা, সংযোগ ও জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালীকরণ এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্যের উপর পর ভারতের কৌশলগত মনোযোগকে প্রতিফলিত করে।
এল.পি.এম.এস হলো একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা স্থলবন্দরগুলোর কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি লজিস্টিকস এবং নিয়ন্ত্রক তথ্যের নিরাপদ ও রিয়েল-টাইম আদান-প্রদান সক্ষম করে, যা স্থলবন্দরগুলোকে বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে চালু থাকা ডিজিটাল সিস্টেমের সমপর্যায়ে নিয়ে আসে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনস্থ সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এলপিএআই) বর্তমানে দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তজুড়ে ১৫টি স্থলবন্দর পরিচালনা করছে। ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর আটারি (পাঞ্জাব) এবং ডেরা বাবা নানক (পাঞ্জাব), ভারত-নেপাল সীমান্ত বরাবর রুপাইদিহা (উত্তর প্রদেশ), রাক্সাউল (বিহার) জোগবানি (বিহার), ভারত-ভুটান সীমান্ত বরাবর দাররাঙ্গা (আসাম); ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর পেট্রাপোল (পশ্চিমবঙ্গ), ডাউকি (মেঘালয়), সুতারকান্দি, গোলকগঞ্জ এবং মানকাচর (আসাম), ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার শ্রীমন্তপুর এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম এবং ভারত-মায়ানমার সীমান্ত বরাবর মোরেহ (মণিপুর)। এসব স্থলবন্দরের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, এলপিএমএস চালুর মাধ্যমে ভারতের স্থলবন্দরগুলো বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে ব্যবহৃত আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার সমপর্যায়ে পৌঁছাবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় কর্মরত নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য অংশীজনদের জন্য উন্নত আবাসন সুবিধা চালু হওয়ায় পরিকাঠামোগত সহায়তাও আরও শক্তিশালী হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য সুবিধা ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
























