মুম্বই, ৮ জুন (আইএএনএস): প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে প্রজন্মের পর প্রজন্ম কীভাবে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে, সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিজের জীবনের নানা স্মৃতি ভাগ করে নিলেন বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ অমিতাভ বচ্চন।
নিজের ব্লগে অমিতাভ লিখেছেন, “আজকের দিনটি আমার কাছে অনেক নতুন জ্ঞান নিয়ে এসেছে। আমরা ১৯৪০-এর দশকের মানুষ, সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও অনেক অজানা বিষয়কে সঙ্গে নিয়েই বড় হয়েছি। তখন আবিষ্কার বা প্রযুক্তির জগৎ সম্পর্কে জানার সুযোগও খুব কম ছিল।”
তিনি বলেন, যে সময়টায় তাঁরা বেড়ে উঠেছেন, তখন অনেক মৌলিক সুবিধাই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। ফলে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আজকের প্রজন্মের কাছে অনেক সময় অবিশ্বাস্য বলে মনে হতে পারে।
অভিনেতার কথায়, “যখন আপনি এমন এক সময়ে বেঁচে থেকেছেন, যেখানে অনেক কিছুই অজানা ছিল বা সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছিল, তখন নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের অভিজ্ঞতা বোঝা কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ঠিক, কিন্তু আমরাও ভুল নই।”
অমিতাভ স্মরণ করেন, একসময় টেলিফোন, ফ্রিজ কিংবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এয়ার কন্ডিশনার) সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। পরে আর্থিক অবস্থার উন্নতির সঙ্গে সেসব জিনিস জীবনে আসায় যে উচ্ছ্বাস ও বিস্ময় তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমান প্রজন্মের পক্ষে উপলব্ধি করা কঠিন।
তিনি লেখেন, “যখন আপনি জানেনই না টেলিফোন কী, আপনার কাছে টেলিফোন নেই; ফ্রিজ কী, তা-ও জানেন না; এয়ার কন্ডিশনারের অভিজ্ঞতাও নেই— তখন একদিন সেগুলো জীবনের অংশ হয়ে উঠলে যে আনন্দ ও বিস্ময় তৈরি হয়, তা আজকের প্রজন্মের কাছে অদ্ভুত মনে হতে পারে।”
তবে তাঁর মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতি যেভাবে দ্রুত এগোচ্ছে, আজকের তরুণ প্রজন্মও ভবিষ্যতে এমন অনেক নতুন আবিষ্কারের মুখোমুখি হবে, যা তাদের একইভাবে বিস্মিত করবে।
অমিতাভ বলেন, “প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা এত দ্রুত যে খুব শিগগিরই বর্তমান প্রজন্মও নতুন ও অভাবনীয় আবিষ্কার দেখে একই ধরনের বিস্ময়ের সম্মুখীন হবে।”
বয়স বাড়লেও আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলানোর ইচ্ছা যে তাঁর এখনও অটুট, তাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
অভিনেতা লেখেন, “এই বয়সেও আমাদের ইচ্ছা এবং দৃঢ় সংকল্প হল সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা। অনেকেই হয়তো চুপচাপ বসে থেকে পৃথিবীকে এগিয়ে যেতে দেখতে চান। কিন্তু অনেকেই আবার আধুনিকতার এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে ও শিখতে আগ্রহী।”
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রযুক্তিতে অবদান রাখার ক্ষমতা না থাকলেও বর্তমান সময়ের পরিবর্তনকে উপভোগ করার ইচ্ছাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
— আইএএনএস



















