বেঙ্গালুরু, ৫ জুন : কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে শুক্রবার বেঙ্গালুরুর বিধান সৌধে কর্ণাটক থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া।
কর্ণাটক থেকে দ্বিবার্ষিক রাজ্যসভা নির্বাচন আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন কংগ্রেস সরকারকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে শুক্রবার বেঙ্গালুরু পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার, নবনিযুক্ত কংগ্রেস রাজ্য সভাপতি বি. কে. হরিপ্রসাদ এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য সিদ্দারামাইয়া।
বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছে রাহুল গান্ধী একটি চারা গাছ রোপণ করেন এবং তাতে জল দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা, সিদ্দারামাইয়া, মন্ত্রী এম. বি. পাতিল-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।
অন্যদিকে, কর্ণাটকের নতুন কংগ্রেস সরকারের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ আরও প্রকাশ্যে এসেছে। জলসম্পদমন্ত্রী রামলিঙ্গ রেড্ডি শুক্রবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বেঙ্গালুরু আরবান দফতর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার।
বেঙ্গালুরুর কোরামঙ্গালায় নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রামালিঙ্গা রেড্ডি জানান, তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন এবং তা গ্রহণ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেতৃত্বের উপর ছেড়ে দেবেন।
তিনি দাবি করেন, সরকার গঠনের সময় তাঁকে আড়াই বছর পর বেঙ্গালুরু আরবান দফতরের দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার এবং তাঁর ভাই ডি. কে. সুরেশ ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বাসভবনে গিয়ে সেই আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তাঁকে জলসম্পদ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে, নবগঠিত সরকারের জন্য আরও একটি ধাক্কা এসেছে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও মন্ত্রী কে. এইচ. মুনিয়াপ্পা-র অসন্তোষে। খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ দফতরের দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, তিনি এই মন্ত্রকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না। পাশাপাশি বিষয়টি সমাধানের জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন।
সাতবারের সাংসদ এবং বর্তমানে দেবনাহাল্লির বিধায়ক মুনিয়াপ্পা দলিত সম্প্রদায়ের একজন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রতি আনুগত্য ও জনমুখী রাজনীতির জন্য পরিচিত। এর আগে তিনি খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ মন্ত্রকের দায়িত্বও সামলেছেন।
উল্লেখ্য, বুধবার মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমারের নেতৃত্বে নতুন কংগ্রেস সরকার শপথ গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন করা হয়। তার পর থেকেই সরকারের অভ্যন্তরে অসন্তোষের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



















