আমদাবাদ, ২ জুন (আইএএনএস): ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১,৫২,৯৬৭ কোটি টাকা (প্রায় ১৬.১ বিলিয়ন ডলার) মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) করে ভারতীয় কর্পোরেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক বিনিয়োগের দাবি করেছে আদানি গ্রুপ-এর আদানি পোর্টফোলিও।
মঙ্গলবার সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই বিপুল বিনিয়োগের ফলে তাদের মোট সম্পদভিত্তি (অ্যাসেট বেস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭,৮৫,০৯৮ কোটি টাকা (প্রায় ৮২.২ বিলিয়ন ডলার), যা গোষ্ঠীর দ্রুতগতির বিনিয়োগ চক্রের প্রতিফলন।
সংস্থার দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তাদের ইবিটডা সর্বকালের সর্বোচ্চ ৯৪,৮৩৪ কোটি টাকা (প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার) হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে মোট আয়ের ৮৭ শতাংশ এসেছে মূল পরিকাঠামো খাত থেকে।
আদানি পোর্টফোলিওর মতে, মোট বিনিয়োগের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছে শক্তি, ইউটিলিটি, পরিবহণ এবং লজিস্টিক্স খাতের পরিকাঠামো উন্নয়নে।
অর্থবর্ষের শেষে গোষ্ঠীর হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৫,৮৫২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ১৫ শতাংশের সমান। পাশাপাশি ঋণ গ্রহণের গড় খরচও কমে ৭.৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দুই বছর আগে ছিল ৯ শতাংশ।
সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ আদানি পোর্টফোলিওর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই সময়ে গোষ্ঠী নতুন বিনিয়োগ চক্রে প্রবেশ করেছে। চলতি বছরের মূলধনী বিনিয়োগের পরিমাণ আমাদের প্রথম ২৫ বছরে গড়ে তোলা সম্পদভিত্তির সঙ্গে তুলনীয়।”
এই সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প চালু হয়েছে বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫.১ গিগাওয়াট নবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা, ১.৩৮ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (পরবর্তীতে বেড়ে ৩.৩৭ গিগাওয়াট-ঘণ্টা), নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গুয়াহাটি টার্মিনাল, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে, তামা গলন (কপার স্মেল্টার) প্রকল্প।
সংস্থার মতে, আগামী কয়েক বছরে এই প্রকল্পগুলি আয়, মুনাফা এবং নগদ প্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আদানি পোর্টফোলিও আরও জানিয়েছে, তাদের নিট ঋণ-ইবিটডা অনুপাত ৩.৩ গুণে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা নির্ধারিত ৩.৫ গুণের নিচে। মোট সম্পদভিত্তির প্রায় ৬০ শতাংশই ইক্যুইটি দ্বারা অর্থায়ন করা হয়েছে।
গত অর্থবর্ষে আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড রাইটস ইস্যুর মাধ্যমে ২৪,৯৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। একই সময়ে গোষ্ঠীর আটটি বিমানবন্দরে মোট ৯ কোটি ৫৩ লক্ষ যাত্রী পরিষেবা পেয়েছেন।
আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড-এর কার্যকর উৎপাদন ক্ষমতা ৫.১ গিগাওয়াট বৃদ্ধি পেয়ে ১৯.৩ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। গুজরাটের খাভদা-য় ব্যাটারি শক্তি সঞ্চয় প্রকল্পের ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে আদানি এনার্জি সলিউশনস লিমিটেড-এর নির্মীয়মাণ ট্রান্সমিশন প্রকল্পের মূল্য ৭১,৭৭৯ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং সংস্থাটি ১ কোটিরও বেশি স্মার্ট মিটার স্থাপনের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
এছাড়া আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড-এর কার্গো পরিবহণ ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ কোটি ৮ লক্ষ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংস্থাটি অস্ট্রেলিয়ার এনকিউএক্সটি অস্ট্রেলিয়া অধিগ্রহণও সম্পন্ন করেছে।
______



















