আগরতলা, ২ জুন: প্রায় ১৬ মাস বাংলাদেশে কারাবন্দি থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরলেন ত্রিপুরার আমতলী এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ চন্দ্র পাল। সোমবার খোয়াই জেলার পাহাড়মুড়া সীমান্ত গেট দিয়ে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয় বাংলাদেশ প্রশাসন।
সকাল প্রায় সাড়ে ১১টায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আসন্ন ত্রিপুরা সফরের ঠিক আগে এই প্রত্যর্পণ সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ৫ জুন তাঁর রাজ্যে এসে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর চার মাস আগে বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়াই বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে প্রদীপ চন্দ্র পালকে আটক করে সেদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে নির্ধারিত সাজা ভোগের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাঁকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।
ভারতের পক্ষে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার, বিএসএফের ১০৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার অশোক কুমার, বিএসএফ কর্মকর্তা স্ট্যানলি এবং সিধাই থানার অন্তর্গত সুবলটিলা ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাল্লা সীমান্তে ৫৫ বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ দাউদ হোসেন, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুজ্জামান এবং চুনারুঘাট থানার এক প্রতিনিধি।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরিবারের সদস্যকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেছেন প্রদীপ চন্দ্র পালের পরিবারের সদস্যরা।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ সীমান্ত পারাপার রোধে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশই সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আটক নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দিতে মানবিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতাও অব্যাহত রয়েছে।



















