News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ১১,২৫০ হেক্টর জমিতে প্রাকৃতিক চাষের লক্ষ্যে সরকার: কৃষি মন্ত্রী
Image

১১,২৫০ হেক্টর জমিতে প্রাকৃতিক চাষের লক্ষ্যে সরকার: কৃষি মন্ত্রী

আগরতলা, ১ জুন: পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর ও দূষণমুক্ত রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়ে আজ কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচি ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।

দক্ষিণ জেলার অন্তর্গত ভরতচন্দ্র নগর ও রাজনগরে দুইটি নবনির্মিত কৃষি উন্নয়ন গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (আইটি সুবিধাসহ) এবং বিলোনিয়া ডেপুটি ডিরেক্টর  নতুন অফিস ভবন উদ্বোধনের পর মন্ত্রী এই কর্মসূচির সূচনা করেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বায়ু ও জল দূষণ, মাটিতে জৈব কার্বনের পরিমাণ হ্রাস, এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের মতো কারণগুলো এর জন্য দায়ী—এ থেকে রাজ্যও মুক্ত নয়।

তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার দেশব্যাপী ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা রাজ্যেও বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত পৌঁছে কৃষকদের মধ্যে প্রাকৃতিক চাষ সম্প্রসারণ এবং তৈলবীজের উৎপাদন বৃদ্ধি করে ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় ৫,৫৫০ হেক্টর জমিতে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে এবং এতে ১৩,৮৭৫ জন কৃষক যুক্ত রয়েছেন। চলতি বছরে আরও ১১,২৫০ হেক্টর জমি এই ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ফলে বছরের শেষে মোট প্রাকৃতিক চাষের এলাকা দাঁড়াবে ১৬,৮০০ হেক্টর।

তিনি জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান, তাঁদের চাষযোগ্য জমির অন্তত ২৫ শতাংশ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষ করতে, যাতে অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হন।

রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার, পাতা সার, কম্পোস্ট, গোবর সার ও বিভিন্ন জৈব-সার ব্যবহারের উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ব্যবহার ও অপচয় কমানোর আহ্বান জানান।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় অর্গানিক পদ্ধতিতে ২৬,৬৬১ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে এবং এতে ২৬,৮৮৪ জন কৃষক যুক্ত আছেন।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ধীরে ধীরে অর্গানিক চাষ থেকে প্রাকৃতিক চাষের দিকে অগ্রসর হওয়া হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব এবং তা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়। রাজ্য সরকার কৃষি ও কৃষক কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ২০৪৭ সাল পর্যন্ত একটি ‘কৃষি রোডম্যাপ’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়াও মন্ত্রী ‘ফার্মার রেজিস্ট্রি’-র গুরুত্ব তুলে ধরেন। কৃষকদের জন্য একটি ‘ইউনিক আইডি’ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়। এখন পর্যন্ত রাজ্যে ৬৩,৭৮৪ জন কৃষকের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত সব কৃষকের নিবন্ধন সম্পূর্ণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Releated Posts

চোত্তাখলার ঘটনায় দক্ষিণ জেলার এসপি-র বিরুদ্ধে ডিজিপির কাছে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আগরতলা, ১৭ জুলাই: দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার চোত্তাখলায় সিপিআই(এম)-এর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ১৫ জুলাই সংঘটিত অশান্তির ঘটনায় দক্ষিণ…

ByByReshmi Debnath Jul 17, 2026

ত্রিপুরা পুলিশে বড়সড় রদবদল: একযোগে বদলি ৪৭ জন আইপিএস ও টিপিএস অফিসার

আগরতলা, ১৭ জুলাই: ত্রিপুরা পুলিশের শীর্ষস্তরে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল করল রাজ্য সরকার। একযোগে ৪৭ জন আইপিএস ও টিপিএস …

ByByReshmi Debnath Jul 17, 2026

জিন্দ থেকে দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, ১৪,৭০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পেরও সূচনা

জিন্দ (হরিয়ানা), ১৭ জুলাই (আইএএনএস): ভারতের পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রেল পরিবহনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। শুক্রবার হরিয়ানার…

ByByTaniya Chakraborty Jul 17, 2026

গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত করতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ জুলাই: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে…

ByByReshmi Debnath Jul 17, 2026
Scroll to Top