News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • সামাজিক ভাতা ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর থেকে বঞ্চিত দরিদ্র রিক্সাচালকের পরিবার
Image

সামাজিক ভাতা ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর থেকে বঞ্চিত দরিদ্র রিক্সাচালকের পরিবার

আগরতলা, ১৮ মে : সামাজিক ভাতা এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সরকারি ঘর থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন জম্পুইজলা ব্লকের প্রমোদনগর ভিলেজের বাসিন্দা দরিদ্র রিক্সাচালক হালিম মিয়া ও তাঁর পরিবার। প্রমোদনগর বাজার সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী এই পরিবারটির দুর্দশার চিত্র সামনে আসতেই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের কর্তা হালিম মিয়া বিশ্রামগঞ্জ বাজারে রিক্সা চালিয়ে কোনওরকমে সংসার চালান। স্ত্রী পারুলী বেগম এবং চার ছোট ছেলে-মেয়েকে নিয়ে তাঁর ছয় সদস্যের পরিবার। সন্তানদের মধ্যে আপন মিয়া, পারমিন বেগম, রিমা বেগম ও রিপন মিয়া রয়েছে। বড় মেয়ের বয়স বর্তমানে ১৪ বছর। প্রতিদিন রিক্সা চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনওরকমে দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থা হয় পরিবারের।

হালিম মিয়ার বসতঘরটি মাটির তৈরি এবং অত্যন্ত জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছর ঝড়-বৃষ্টিতে ঘরের টিনের ছাউনি উড়ে গিয়েছিল। পরে অনেক কষ্টে আবার টিনের ব্যবস্থা করে কোনওরকমে ঘর মেরামত করেন তিনি। বর্তমানে ভাঙাচোরা সেই ঘরেই দিন কাটছে পুরো পরিবারের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জম্পুইজলা ব্লকের অন্যতম দরিদ্র পরিবার হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত হালিম মিয়ার কপালে জোটেনি বৃদ্ধ ভাতা কিংবা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর। বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ৬০ বছর হলেও তিনি এখনও বৃদ্ধ ভাতার আওতায় আসতে পারেননি।

সোমবার সংবাদ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন হালিম মিয়া। তিনি সংবাদ প্রতিনিধিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পরিবারের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে ব্লক অফিস বা ভিলেজ অফিসে গিয়ে আবেদন করার মতো সময়ও তাঁর হাতে থাকে না। কারণ, একদিন রিক্সা না চালালে পরিবারকে উপোস থাকতে হয়।

হালিম মিয়া ও তাঁর স্ত্রী পারুলী বেগম সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের কাছে সামাজিক ভাতা এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘরের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, সরকার এবং প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।

এদিকে, প্রমোদনগর ভিলেজ ও বিশ্রামগঞ্জ এলাকার বহু মানুষ এই পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর মতে, সমাজের বিত্তবান এবং প্রশাসন একযোগে এগিয়ে এলে হালিম মিয়ার পরিবারের দুর্দশা অনেকটাই লাঘব হতে পারে।

Releated Posts

রান্নার গ্যাস আনতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা, ক্ষোভ বক্সনগরে

বক্সনগর, ১৮ মে : রান্নার গ্যাস সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বক্সনগরের আরজিজি এল…

ByByTaniya Chakraborty May 18, 2026

প্রাক্তন মন্ত্রী কালিদাস দত্তের শেষকৃত্য সম্পন্ন, শোকস্তব্ধ ধর্মনগর

ধর্মনগর, ১৮ মে:  ত্রিপুরা রাজ্যের প্রাক্তন ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের মন্ত্রী কালিদাস দত্তের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে…

ByByReshmi Debnath May 18, 2026

উরমাই বাজার থেকে কৃষ্ণ চৌমুহনী পর্যন্ত বেহাল রাস্তা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

আগরতলা, ১৮ মে: উন্নয়নের বড় বড় প্রতিশ্রুতির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক নির্মম বাস্তব। উরমাই বাজার থেকে কৃষ্ণ চৌমুহনী…

ByByReshmi Debnath May 18, 2026

প্রবীণ সাংবাদিক প্রদীপ চক্রবর্তীর প্রয়াণে শোকের ছায়া

আগরতলা, ১৮ মে : প্রবীণ সাংবাদিক তথা ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন-এর সদস্য প্রদীপ চক্রবর্তীর প্রয়াণে ত্রিপুরার সাংবাদিক মহলে…

ByByTaniya Chakraborty May 18, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top