আগরতলা, ১৮ মে: উন্নয়নের বড় বড় প্রতিশ্রুতির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক নির্মম বাস্তব। উরমাই বাজার থেকে কৃষ্ণ চৌমুহনী পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা বর্তমানে এতটাই বেহাল যে সেখানে পিচ বা ইটের কোনো অস্তিত্বই আর চোখে পড়ে না। রাস্তা জুড়ে শুধুই বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশ, যার ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করেন স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারীসহ বহু সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এমন দুর্দশা চললেও প্রশাসনের তরফে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, “গত আট বছর ধরে আমরা এই দুর্ভোগ সহ্য করছি। এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এখন এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা মানেই জীবন হাতে নিয়ে চলা।”
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, আগে অন্তত একটি চলাচলযোগ্য রাস্তা ছিল, কিন্তু বর্তমানে তার কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
সমস্যার আরেকটি বড় কারণ হলো রাস্তার একাংশে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ অচলাবস্থা। সামান্য বৃষ্টি হলেই নোংরা জল উপচে পড়ে পুরো রাস্তা জলমগ্ন হয়ে যায়। ফলে দুর্গন্ধময় ও নোংরা জলের মধ্য দিয়েই মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে জলের নিচে লুকিয়ে থাকা বড় বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ, কম জনসংখ্যার এডিসি এলাকাগুলোতেও যেখানে উন্নত ও পরিচ্ছন্ন রাস্তা দেখা যায়, সেখানে এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেন এমন অবহেলা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে মহকুমা প্রশাসন— কারও পক্ষ থেকেই দীর্ঘদিন ধরে কোনো সদর্থক উদ্যোগ দেখা যায়নি। একের পর এক আবেদন ও অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের উদাসীন মনোভাবেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এখন দ্রুত রাস্তার সংস্কার ও সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।



















