নয়াদিল্লি, ১৪ মে (আইএএনএস) : আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, চলমান সংঘাত এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে ব্রিকসের প্রতি “গঠনমূলক ও স্থিতিশীল ভূমিকা” পালনের প্রত্যাশা বাড়ছে বলে মন্তব্য করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ভারতের ২০২৬ সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্প্রসারিত ব্রিকস গোষ্ঠীর বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এদিন ব্রিকস সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির বিদেশমন্ত্রী এবং শীর্ষ কূটনীতিকরা বৈঠকে যোগ দিতে রাজধানীতে পৌঁছন। বৈঠক শুরুর আগে বিদেশমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে আগত প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের সভাপতিত্বে আপনাদের সহযোগিতা আমাদের কাজের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিশ্ব কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিদেশমন্ত্রীর কথায়, “চলমান সংঘাত, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও জলবায়ু সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ বিশ্ব পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।”
তিনি আরও বলেন, বিশেষত উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলি আশা করছে যে ব্রিকস এই পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক ও স্থিতিশীল ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, এই আলোচনা বিশ্ব ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বাস্তবসম্মত পথ খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে।
জয়শঙ্কর বলেন, “জ্বালানি, খাদ্য, সার ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার অভাব বহু দেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিকস এই দেশগুলিকে আরও কার্যকরভাবে সাড়া দিতে সাহায্য করতে পারে।”
তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও বহুমুখী বাজার তৈরির উপরও জোর দেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী বলেন, এটি এখনও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় এবং টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি ন্যায়সঙ্গত দায়িত্ববণ্টনের নীতি বজায় রাখা জরুরি।
একইসঙ্গে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রযুক্তিকে সুশাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা উচিত।
শান্তি ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলি আবারও সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্ব সামনে এনে দিয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও জোরদার সহযোগিতার আহ্বানও জানান তিনি।
সবশেষে ব্রিকস কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির ভূমিকার প্রশংসা করে বিদেশমন্ত্রী বলেন, “এই জটিল ও অনিশ্চিত বিশ্বে মতবিনিময় এবং অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”



















