নিজস্ব প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া, ৭ মে: ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালে তীব্র চিকিৎসক ও নার্স সংকটকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। খাতায়-কলমে হাসপাতালে ১৩ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে কর্মরত রয়েছেন মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক। ফলে নড়বড়ে পরিকাঠামোর মধ্যেই সীমিত জনবল নিয়ে চলছে চিকিৎসা পরিষেবা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও ওষুধের অভাব রয়েছে। এর জেরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাদের পরিবার।
গন্ডাছড়া মহকুমা সদরস্থিত ৫০ শয্যার হাসপাতালটি মহকুমার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার জাতি ও জনজাতি মানুষের একমাত্র ভরসার চিকিৎসাকেন্দ্র। তবে প্রায় ৪০ বছরের পুরনো দ্বিতল ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অভিযোগ, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে রোগীদের ভর্তি রাখা ও চিকিৎসা পরিষেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বর্তমানে হাসপাতালে পাঁচজন চিকিৎসক থাকলেও তাঁদের মধ্যে একজন ছুটিতে থাকায় কার্যত চারজন চিকিৎসক দিন-রাত পরিশ্রম করে পরিষেবা দিচ্ছেন। অন্যদিকে, যেখানে অন্তত ২০ জন নার্স প্রয়োজন, সেখানে রয়েছেন মাত্র ১০ জন নার্স।
রোগীদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় চিকিৎসকেরা বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন। ফলে গরিব ও অসহায় রোগীদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার মহকুমা হাসপাতালের স্বাস্থ্য আধিকারিক জটিলেশ্বর দেববর্মার সঙ্গে কথা বলেন সাংবাদিকরা। তিনি জানান, হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১৩ হলেও তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে স্বাস্থ্য দপ্তর রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেপুটেশনে পাঠিয়েছে। একই অবস্থা নার্সদের ক্ষেত্রেও। তিনি আরও জানান, মহকুমার অন্তর্গত রইস্যাবাড়ি ও জগবন্ধুপাড়ার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিও চিকিৎসক ও নার্স সংকটে ভুগছে, যার ফলে সঠিক স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, এলাকার জাতি ও জনজাতি অংশের মানুষের অভিযোগ, স্বাস্থ্য দপ্তরের অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা চলছে। অবিলম্বে গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগ, শিশু বিভাগ, হাড়ের বিভাগ ও মেডিসিন বিভাগের জন্য অন্তত একজন করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



















