নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৫ মে: রাজ্যের সাধারণ মানুষের স্বার্থে গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে আজ সচিবালয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। মহাকরণের ২নং কনফারেন্স হলে আয়োজিত এই টাস্ক মনিটরিং সিস্টেমের (টি.এম.এস.) সভায় রাজ্যের ৮টি জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারগণ ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। সভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, এই সরকার জনগণের সরকার, তাই মানুষের সমস্যা সমাধানে দপ্তরগুলিকে সর্বদা সজাগ ও সক্রিয় থাকতে হবে। সংবাদপত্রের মাধ্যমে না জেনে নিজ নিজ দপ্তরের কাজ সম্পর্কে সর্বদা ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন।
আজকের এই পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আগরতলা শহরসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা সদরে ট্রাফিক যানজট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে অধিক ওজন বহনকারী যানবাহনের ওজন সঠিক রাখার ক্ষেত্রে নজরদারি এবং ট্রাফিক ইলেকট্রনিক সিগন্যালগুলো যাতে সর্বদা সচল থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট অধিকারিকদের নির্দেশ দেন। এছাড়া রাজ্যে নতুন মোটর স্ট্যান্ড তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করতে পরিবহন আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজ্যকে মাদক মুক্ত করার লড়াইয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেলপথে যাতে কোনোভাবেই মাদক প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে সদা সক্রিয় থাকতে হবে। সমাজদ্রোহীদের আনাগোনা রয়েছে এমন এলাকাগুলোতে নৈশকালীন টহল বা নাইট পেট্রোলিং বাড়ানোর পাশাপাশি নার্সিংহোম, রিহ্যাবিলিটেশন হোম এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো যাতে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত থেকে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়েও তিনি আরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর তদারকির নির্দেশ দেন।
জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী ধলাই জেলার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। বিশেষ করে বর্ষার মরসুমে ডায়রিয়া বা ডিসেন্ট্রির প্রকোপ রুখতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে তিনি জেলাশাসক ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। আগরতলা আইজিএম হাসপাতালের জেনেরিক মেডিসিন ব্যবস্থাপনা এবং রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের নানাবিধ ছোটখাটো সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়গুলোতে মিড-ডে মিলের গুণগত মান ও ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি পঠন-পাঠনের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার ওপর মুখ্যমন্ত্রী জোর দেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন ‘স্কুল হেলথ প্রোগ্রাম’ সম্পর্কেও বিস্তারিত অবগত হন।
পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী সড়ক সংস্কারের কাজ গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ পরিষেবার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দপ্তরের আধিকারিকরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান যে, সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামোর ৯৯ শতাংশ ইতিমধ্যেই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া রেগার টাকা প্রদানে যাতে কোনো বিলম্ব না হয় এবং দৈনিক শ্রমিকদের মজুরি ও ভাতা যাতে সঠিক সময়ে প্রদান করা হয়, সে বিষয়ে আধিকারিকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সভা শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে জেলা, মহকুমা সহ বিভিন্নস্তরে যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, সমস্যা থাকবেই, কিন্তু আগের থেকে সতর্ক, সজাগ এবং কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতাই সমস্যা থেকে বের হবার প্রকৃষ্ট উপায়। উন্নয়নের গতি রক্ষা করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
আজকের সভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভারপ্রাপ্ত সচিব অপূর্ব রায়, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, নগর উন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য সহ বিভিন্ন দপ্তরের সচিব ও অধিকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভার্চুয়ালি ৮টি জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা আলোচনায় অংশ নেন।


















