নতুন দিল্লি, ৫ মে (আইএএনএস): বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর দলের নেতা নীতিন নবীন মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।
তিনি ফল ঘোষণার পর মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা করেন এবং এই জয়কে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গসহ সব রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানাই। মা কালী ও মা কামাখ্যার ভূমিতে এই জয়ের পর আমি এখানে এসে মা কালীর কাছে প্রার্থনা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি প্রার্থনা করি মা দুর্গা, মা কালী ও মা কামাখ্যা আমাদের আশীর্বাদ করুন, যাতে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং পুরো দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে, যিনি দেশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন এবং আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করছেন, আমি বিশ্বাস করি পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও এগিয়ে যাবে।”
নীতিন নবীন বলেন, জনগণের রায় তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
“যেভাবে মানুষ আমাদের সমর্থন করেছে, তা প্রমাণ করে তারা নিজেদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্যই এই রায় দিয়েছে। আমি মা কালীর কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে এসেছি এবং কামনা করি পুরো দেশ শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক,” তিনি যোগ করেন।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির শক্তিশালী ফলাফল রাজ্যে একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী শক্তির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে এটি দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস, যার নেতৃত্বে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অন্যতম প্রধান সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৯৬টি আসন। ২৯৩টি আসনের ফল সোমবার ঘোষণা করা হয় এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনে পুনর্নির্বাচন ২১ মে অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যার গণনা ২৪ মে হবে।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী বিজেপি ২০৬টি আসন পেয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস ৮১টি, কংগ্রেস ২টি, সিপিআই(এম) ১টি, এবং অন্যান্য দলগুলো ১ ও ২টি আসন পেয়েছে।
ভোটের শতাংশের হিসেবে বিজেপি পেয়েছে ৪৬ শতাংশ, তৃণমূল কংগ্রেস ৪১ শতাংশ, বামফ্রন্ট ৪ শতাংশ, কংগ্রেস ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য দল মিলিয়ে ৬ শতাংশ ভোট।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, তৃণমূল কংগ্রেস দশটি জেলায় একটি আসনও জিততে পারেনি, যার মধ্যে রয়েছে কোচবিহার, পূর্ব মেদিনীপুর, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং। এছাড়া উপজাতি ও মতুয়া অধ্যুষিত সব আসনেও তারা পরাজিত হয়েছে।



















