কাঠমান্ডু, ৩ মে (আইএএনএস): বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপে নেপালের প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাউডেল একটি অধ্যাদেশ জারি করে একযোগে ১,৫৯৪ জন রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্তকে পদ থেকে অপসারণ করেছেন। এই সিদ্ধান্তে দেশের প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
“অফিস থেকে সরকারি পদাধিকারীদের অপসারণ সংক্রান্ত বিশেষ বিধান, ২০২৬” শীর্ষক এই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চের আগে যাঁরা বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বোর্ড, কাউন্সিল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়া সংস্থায় নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাঁদের নিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই অধ্যাদেশ জারি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ-এর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সুপারিশে। ৫ মার্চের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ২৬ মার্চ শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কিছু পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কাঠমান্ডুর নদীর পাড় থেকে বসতি উচ্ছেদকে ঘিরে মানবিক প্রশ্ন উঠেছে। সমর্থকদের মতে, ভুয়ো ভূমিহীনদের সরানো প্রয়োজন ছিল, তবে সমালোচকদের অভিযোগ—যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে, ফলে বহু পরিবার বিপাকে পড়েছে।
এছাড়াও, একাধিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে মানি লন্ডারিং মামলায় তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এমনকি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি, শের বাহাদুর দেউবা এবং পুষ্প কমল দাহাল-এর বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
সরকারের তরফে ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা জোরদার করা এবং পরিষেবা দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ অবশ্য সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে এত বড় সংখ্যক কর্মকর্তাকে একসঙ্গে সরিয়ে দেওয়ার ফলে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।



















