কলকাতা, ২১ এপ্রিল (আইএএনএস): আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। মোট ১৬টি জেলার মধ্যে সাতটি জেলার সমস্ত কেন্দ্রকে বিশেষ নিরাপত্তা নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
এই সাতটি জেলা হল মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহার, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান। এর মধ্যে মালদা, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর উত্তরবঙ্গে অবস্থিত, বাকি চারটি জেলা দক্ষিণবঙ্গের অন্তর্গত।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ বছরে (২০১১ সাল থেকে) ভোটকেন্দ্রের সংবেদনশীলতা, ভোট-সহিংসতার ইতিহাস এবং হতাহতের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেই এই জেলাগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই কারণে ভোটের দিন এই জেলাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)-এর মোতায়েন সর্বাধিক থাকবে। অধিকাংশ বুথকেই ‘ক্রিটিক্যাল’ বা ‘হাইপারসেনসিটিভ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ২,১৯৩টি কিউআরটি মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সম্পূর্ণভাবে হিংসামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর কোনও সুযোগ না থাকে।
গত ১৫ বছরে নির্বাচনী সহিংসতার নিরিখে শীর্ষে থাকা মুর্শিদাবাদ জেলায় সর্বাধিক ২১৯টি কিউআরটি মোতায়েন করা হবে। এই দলগুলি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ)-এর জওয়ানদের নিয়ে গঠিত হবে এবং প্রতিটি দলে শুধুমাত্র একজন সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক থাকবেন রুট গাইড হিসেবে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের জন্য থাকবে দ্বিস্তরীয় যাচাই প্রক্রিয়া। প্রথম ধাপে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা যাচাই করবেন এবং দ্বিতীয় ধাপে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) পরিচয় নিশ্চিত করবেন।
এছাড়াও, ভোটের দিন দায়িত্বে গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইন্সপেক্টর থেকে শুরু করে জেলা পুলিশ সুপার পর্যন্ত সকল স্তরের পুলিশ আধিকারিকদের সতর্ক করা হয়েছে যে, কোনও গাফিলতি প্রমাণিত হলে তা তাঁদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।



















