নয়াদিল্লি, ১৮ এপ্রিল (আইএএনএস): লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ার একদিন পর শনিবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্যে এই বিল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর সব দলের নেতারা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-র সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়ে আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, সংবিধান সংশোধনী এই বিলটির লক্ষ্য ছিল সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো। তবে লোকসভায় ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩১টি ভোট পড়ে, যা প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে কম হওয়ায় এটি পাশ হয়নি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটে অংশ নেন, যেখানে বিল পাশের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫২ ভোট।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে নারী সংরক্ষণ কার্যকর করতে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সর্বাধিক ৮৫০ করার পরিকল্পনা ছিল। এর জন্য ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন করার কথাও বলা হয়েছিল।
বিলটি বাতিল হওয়ার পর ভারতীয় জনতা পার্টি এই ঘটনাকে ‘কালো দিন’ বলে আখ্যা দিয়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন, বিরোধীরা মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
অন্যদিকে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং তার মিত্ররা দাবি করেছে, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া নারী সংরক্ষণ আইন অবিলম্বে কার্যকর করা হোক। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর সহ একাধিক বিরোধী নেতা জানান, তারা নারী সংরক্ষণের বিরোধী নন, তবে ডিলিমিটেশনের সঙ্গে এটিকে যুক্ত করার বিরোধিতা করছেন।
এদিকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য সংবিধানের কাঠামো বদলে নির্বাহী ক্ষমতা নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করা।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর আজকের ভাষণ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।



















